1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
কার্গো ভিলেজে ফের আগুন, শর্টসার্কিট নাকি পরিকল্পিত! - আজকের কাগজ
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কার্গো ভিলেজে ফের আগুন, শর্টসার্কিট নাকি পরিকল্পিত! নারী-শিশুদের বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ রপ্তানি খাতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু সর্বোচ্চ ভোট পেলেন তামিম ইকবাল, হলেন বিসিবি সভাপতি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার মধ্যে সাহসিকতা রয়েছে: ট্রাম্প দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোকারম গ্রেফতার কুড়িগ্রামের কালজানি গ্রাসে শতাধিক বসতভিটা বিলীন দু’বেলা খাবারও জোটে না, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে বৃদ্ধ হাফেজ উদ্দিনের ধর্মপাশায় পূর্ব শর্ত্রূতার কারণে ১ জনকে পিঠিয়ে হত্যা রুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে: সালমা পেলেন ফুল-ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ

কার্গো ভিলেজে ফের আগুন, শর্টসার্কিট নাকি পরিকল্পিত!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ১০:১৫ পিএম
শেয়ার করুন

একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পর ‘রেড এলার্ট’ জারি, অফিস আদেশ, তদন্ত কমিটি গঠন এবং কঠোর সতর্কতার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব নির্দেশনা কতটা কার্যকর হচ্ছে? হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও আগুন লাগার ঘটনায় সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

কারণ, মাত্র কয়েক মাস আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরও একই স্থানে আবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) সম্প্রতি দেশের সব বিমানবন্দর, আবাসিক কোয়ার্টার, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং কার্যালয়ে অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে একটি অফিস আদেশ জারি করেছে।

সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল রাখা, নিয়মিত ফায়ার ড্রিল, সিসিটিভি নজরদারি এবং জরুরি বহির্গমন পথ উন্মুক্ত রাখাসহ একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, এসব নির্দেশনার বড় অংশই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
রেড এলার্টে কী বলা হয়েছিল?
সিএএবির জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ভবনের ভেতর ও আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে এবং যেকোনো দাহ্য পদার্থ দ্রুত অপসারণ করতে হবে। কারণ, অনেক সময় অব্যবহৃত কাগজ, প্লাস্টিক, কাঠ বা অন্যান্য দাহ্য বস্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া ভবনের বৈদ্যুতিক লাইন ও যন্ত্রপাতির ত্রুটি দ্রুত মেরামত এবং নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ হওয়ায় বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় প্রতিটি স্থাপনায় পর্যাপ্তসংখ্যক ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার হোস এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল অবস্থায় রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত ফায়ার ড্রিল বা মহড়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জরুরি বহির্গমন পথ বা ইমার্জেন্সি এক্সিট সবসময় খোলা ও ব্যবহারোপযোগী রাখার নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আগুন লাগলে দ্রুত যোগাযোগ এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বাস্তবে কী দেখা যায়?
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, এসব নির্দেশনার বড় অংশই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। কোথাও জরুরি বহির্গমন পথ মালামাল দিয়ে বন্ধ রাখা হয়, আবার কোথাও কর্মীরা জানেন না কীভাবে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়।

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে, পরিদর্শনের সময় কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে পরে সেই ব্যবস্থা আর বজায় থাকে না।

গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টা ২৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় একটি কুরিয়ার কনটেইনারে আগুন লাগে। বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনার পর বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি নিজেই প্রশ্ন তোলেন, “শর্ট সার্কিট হবে কেন? আগের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তেও একই কারণ উঠে এসেছিল। তাহলে নিশ্চয়ই কোথাও গাফিলতি রয়েছে।”

আট মাসে একই স্থানে দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ড
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর একই কার্গো এলাকায় ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি কাজ করে। শত শত কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যায়। দেশি-বিদেশি সংস্থাও তদন্ত করে।

ওই ঘটনার পর সুপারিশগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তার সুস্পষ্ট জবাব নেই। বরং একই এলাকায় আবার আগুন লাগার ঘটনা প্রমাণ করছে, ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো এলাকা দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানগুলোর একটি। এখানে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার আমদানি ও রপ্তানি পণ্য সংরক্ষণ ও খালাসের কার্যক্রম চলে। এমন একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আগের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তার মধ্যেই আবার একই ধরনের ঘটনা ঘটায় কার্গো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

“একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে মানে কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই ঘাটতি রয়েছে। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করলেই হবে না, কেন এসব দুর্ঘটনা ঘটছে এবং কীভাবে তা স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে,” বলেন তিনি।

মিজানুর রহমানের মতে, কার্গো এলাকায় পণ্যজট, পর্যাপ্ত স্থান ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ঘাটতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই কার্গো ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাই এখানে নিরাপত্তার সামান্য ঘাটতিও ব্যবসায়ীদের জন্য ও রাষ্ট্রীয় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।”

মিজানুর রহমান আরও বলেন, আগের অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

শর্ট সার্কিট কি সহজ ব্যাখ্যা?
বাংলাদেশে অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে শর্ট সার্কিটের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শর্ট সার্কিট নিজেই কোনো চূড়ান্ত কারণ নয়। এর পেছনে থাকে পুরোনো বৈদ্যুতিক লাইন, অতিরিক্ত লোড, নিম্নমানের সংযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতি।

অর্থাৎ বারবার যদি একই কারণ উঠে আসে, তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পরও কেন তা দূর করা হচ্ছে না?

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য এবং এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, কার্গো এলাকায় বারবার আগুন লাগার ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও তদারকির ঘাটতির স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের গাফিলতি এখানে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

কাজী ওয়াহিদুল আলম আরও বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় যে পরিকল্পনা, নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার, বাস্তবে তার অভাব রয়েছে। এ কারণেই একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। গতবার ৮ নম্বর গেটে এবং এবার ৯ নম্বর গেট এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সামগ্রী থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যা কার্গো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

এই এভিয়েশন বিশ্লেষকের মতে, কয়েকদিন আগেই একটি অগ্নিকাণ্ডের পরও কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তারা যে নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করার কথা, সেটি যথাযথভাবে মানছে না। ফলে আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থার বড় ঘাটতি প্রকাশ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হলো, একই প্রতিষ্ঠান সিভিল এভিয়েশন একদিকে নিয়ন্ত্রক, অন্যদিকে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী হিসেবেও কাজ করছে। এতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। বিশ্বের অনেক দেশে বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য পৃথক এয়ারপোর্ট অথরিটি থাকে, আর সিভিল এভিয়েশন কেবল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্যও পৃথক এয়ারপোর্ট অথরিটি গঠন করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না। যে সংস্থা নির্দেশনা দিচ্ছে, বাস্তবায়নের দায়িত্বও যদি তাদেরই থাকে, তাহলে স্বাধীনভাবে তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নির্দেশনা নয়; নির্ধারিত সময় অন্তর বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা অডিট, বৈদ্যুতিক লাইনের পরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিটি বড় অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়, নতুন নির্দেশনা জারি হয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা আসে। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

এই বিভাগের আরো খবর