
রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানাধীন কাজি অফিস রোডের ৩০ ফিট খালের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড সাথে জড়িত ছিল কৃষকলীগের ২৮ নং ওয়ার্ডে নেতা কর্মীরা। অত্র এলাকার দখলবাজি, চাঁদাবাজি, লুটপাট, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি, ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা উঠানো। বস্তির ঝুপড়ি ঘর গুলোতে মাদক সেবন করে রাস্তায় মাতাল হয়ে বিভিন্ন বয়সের নারীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে কৃষকলীগ ও স্বৈরাচার সরকারের অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভুগিরা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী কৃষকলীগের নেতারা এমন কোন অপরাধ নেই যে তারা করেননি।স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতন হওয়ার পর কয়েকদিন গাঁ ঢাকা দিলেও এখন রুপ পাল্টে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সাথে সম্পর্কগড়ে দলের পদ-পদবীর পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা বলেছে, বিগত দিনে তাদের অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে অতিষ্ট ছিল এলাকার লোকজন।এমন কোন অপরাধ নেই যে তারা করেননি ! এখন আবারও সেই অপকর্মকারী চাঁদাবাজ অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের কাছে এলাকাবাসি জিম্মি।এতদিন আওয়ামী লীগের নেতাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিল মানুষ। এখন তা হাতবদল হয়ে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নব্য বিএনপি দখল করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আগের চেয়েও বেড়েছে। প্রত্যেকটি নির্মাণাধীন ভবন, কাচাঁবাজার, ফুটপাত থেকেও নামে-বেনামে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
সূত্র জানা গেছে, শেরে বাংলা নগর থানার কাজী অফিস ২ নাম্বার রোডের ৩০ ফিট খালের পাশে শিউলি বেগমের বাড়ীর সামনে চলাচলের সরকারি জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রাখে কৃষকলীগের ২৮ নং ওয়ার্ডে নেতা মাহাবুবের নেতৃত্ব তোফাজ্জল, লিটন, কবির শেখ, সোহেল, মানিক, সজিব ও খবির গংরা। স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতন হওয়ার পর গত ২৪ আগস্ট সেনাবাহিনী এবং মোহাম্মদপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সন্ময়ক ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে ৩০ ফিট খালের পাশের সরকারি জায়গা দখল মুক্ত করা হয়। দখল মুক্ত হওয়ার কয়েকদিন পর আবারও গত ৩০ আগস্ট খালের পাশে সেই সরকারি জায়গাটি দখলে নিতে দেশিও অস্ত্র ছুরি-চাঁপাতি রামদা, লোহার রড, ইষ্টিলের পাইপ নিয়ে আসে স্থানীয় আওয়ামী কৃষকেলীগের নেতা মাহাবুবের নেতৃত্ব তোফাজ্জল, লিটন হোসেন, কবির শেখ, রাসেল, সোহেল, মানিক, সজিব ও খবির হোসেন গংসহ আরও ৩০ থেকে ৪০ জন দুষ্কৃতিকারি।

এ ঘটনায় ভুক্তভুগি রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন এবং সেনাবাহিনীকে অবগত করেন। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দুষ্কৃতিকারিরা পালিয়ে যায়। স্বৈরাচার সরকার পতন হওয়ার পর এরা এখন বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে এ ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এরা স্বৈরাচার সরকারের অঙ্গসংগঠনের নেতা, নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডর সাথে জড়িত। তবে অভিযোগ উঠেছে কাদের আশ্রয় প্রশ্রয় বিএনপি মত দলের নাম ব্যবহার করে এ সকল অপকর্ম করছে ! এদের অশ্রয় দাতা এরা কারা ? কি সার্থের লোভে এমন প্রশ্রয় দিচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে মাহবুবের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, তিনি মাহাবুব নন রং নাম্বার বলে সংযোগটি কেটে দেন। এ বিষয়ে কৃষকলীগের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল এর কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, কাজী অফিস ইউনিট বিএনপির সভাপতি অফিসে দেখা করতে বলেন। অভিযোগের বিষয় কবির শেখ লিটন হোসেন কে ফোন দিলে তাদের মোবাইল ব্যস্ত থাকাতে তাদের মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং চাঁদাবাজি সহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল আছে বিএনপির হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দ। তার পরেও দলের শুনাম ও ভাবমূর্তী নষ্ট করতে একটি চক্র অপচেষ্টা করছে বলে মনে করছেন একাধিক সিনিয়র হাই কমান্ডের নেতৃবৃন্দ। নানা অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে ২৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতী মিজানুর রহমান স্বপন “আজকের কাগজকে” বলেন,
এ সকল ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। কোন অনৈতিক কাজে দলের কেউ জড়িত থাকলে তাকে দল থেকে বহিস্কারের পাশাপাশি আইনের হাতে তুলে দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে এরা বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলে মনে করেন তিনি