
চার দিনের বিভীষিকা শেষে অবশেষে মুক্তি মিলেছে পাঁচ মাস বয়সী শিশু ফাইমা, তার চার বছরের বোন ফাতেমা ও তাদের বাবা-মায়ের। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের চেষ্টায় কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ৯৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পর একই পরিবারের চার সদস্যকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
তবে স্বস্তির এই খবরের মাঝেও শেষ হয়নি সীমান্তের মানবিক সংকট। খোলা আকাশের নিচে, ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাতের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এখনো শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন আরও পাঁচ বাংলাদেশি।
বৃহস্পতিবার রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওসার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার হওয়া চারজন হলেন— বেলাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬), পাঁচ মাস বয়সী কন্যা ফাইমা এবং চার বছরের ফাতেমা আক্তার।
জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে মানবিক দিক বিবেচনায় পরিবারটির চার সদস্যকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করে।
এর আগে গত রোববার ভোরে ভারতের আসাম সীমান্তঘেঁষা ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয় বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। বিজিবির বাধার মুখে তারা শূন্যরেখায় আটকে পড়েন। একই রাতে আরও তিন যুবককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারাও সেখানে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। ফলে মোট নয়জন বাংলাদেশি সীমান্তের মাঝখানে অনিশ্চয়তার জীবন শুরু করেন।
শূন্যরেখায় আটকে থাকা দুই শিশুর অসুস্থতা, খাদ্য ও চিকিৎসাসংকটের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম সেখানে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। অবশেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিশুসহ পরিবারটির চার সদস্যের মুক্তি নিশ্চিত হয়।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী জানান, উদ্ধার হওয়া চারজনের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সীমান্তে আটকে থাকা বাকি পাঁচ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। দ্রুত তাদেরও ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সীমান্তবাসী।