
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে কখনো খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এবার সেই সুযোগ পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ইতিহাস গড়ে মায়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবার মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ার পথে বাংলাদেশের মেয়েরা।
আজ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মায়ানমারকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম জয় বাংলাদেশের। দুটি গোলই করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। ২০১৮ সালে অলিম্পিক বাছাইয়ে প্রথম দেখায় ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ফিফা র্যাংকিংয়ে ৭৩ ধাপ এগানো দলকেই তাদের মাঠে স্তব্ধ করে দিলেন আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা।বাংলাদেশের ১২৮ র্যাংকিংয়ের বিপরীতে মায়ানমারের অবস্থান ৫৫।
এর আগে দুইবার বাছাইপর্বে খেলে কখনোই জয় পায়নি বাংলাদেশ। ২০১৪ ও ২০২২ আসরে মোট ৫ ম্যাচ খেলে হারে বাংলাদেশ। এবার প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছেন ঋতুপর্ণা-মনিকা চাকমারা।দুই দলই আবার বাংলাদেশের থেকে ফিফা র্যাংকিংয়ে ঢের এগিয়ে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হারায় ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা বাহরাইনকে। সেদিন প্রতিপক্ষকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। আর আজ স্বাগতিক মায়ানমারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
তবে ঘরের মাঠ ইয়াঙ্গন থুউন্না স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মায়ানমার।তবে ডান প্রান্ত থেকে পাওয়া ক্রসটা বাংলাদেশের জালে রাখতে পারেননি সোয়ে ইয়ে টুন। তার শটটা জালের ওপর দিয়ে যায়। ষষ্ঠ মিনিটে বাংলাদেশও একটা সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু বাঁ প্রান্ত থেকে নেওয়া মনিকা চাকমার শটটা সরাসরি মায়ানমারের গোলরক্ষক মেও মিয়া মিয়া নিয়েন।
তবে ১৮ মিনিটে ঠিকই আনন্দ উৎসব করে বাংলাদেশ। উপলক্ষ্যটা এনে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের খুব কাছে বাংলাদেশ ফ্রি কিক পেলে শট নেন এই ফরোয়ার্ড। তবে তার মানব দেয়ালে বাধা পায়। তবে ফিরতি সুযোগ আসলে দারুণ এক বাঁকানো শটে বলকে জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।
৩৬ মিনিটে গোল প্রায় শোধই দিয়েছিল মায়ানমার। তবে ফাঁকা গোলবারের বল জড়ালেও রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালে মায়ানমারের সমতায় ফেরা হয়নি। ফিরতি মিনিটে আরেকবার ফাঁকা পোস্ট পেয়েছিল মায়ানমার। সুইপারের ভূমিকায় বল ক্লিয়ার করতে ডি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসা রূপনা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে ফাঁকা পোস্টেও বলকে জালে জড়াতে পারেননি অধিনায়ক খিন মো মো টুন।
৪১ মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগ পেয়েছিল মায়ানমার। তবে ভাগ্য তাদের সঙ্গে ছিল না। তা না হলে ইউপার খিনের ডান পায়ের বাঁকানো শট বারে লেগে ফিরে আসত না। অবশ্য ফিরতি সুযোগ পেয়েছিলেন নাউ হাতেত হাতেত ওয়াই। কিন্তু গোলরক্ষক রূপনাকে একা পেয়েও বারের ওপর দিয়ে মারেন। এতে এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর ৫৮ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় মায়ানমার। সতীর্থর নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ এক হেডও নিয়েছিলেন বদলি নামা মে হাতেত লু। গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফেরত আসলে দ্রুত বল তালুবন্দি করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রূপনা।
৬৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার নেওয়া ক্রস গোলেই রেখেছিলেন মনিকা চাকমা। বারে লাগায় কপাল চাপড়ান মনিকা। তবে ফিরতি মিনিটে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঋতুপর্ণা। বাঁ পায়ের দারুণ এক চিপে। বাংলাদেশের ফুটবলে এমন অনিন্দ্য সুন্দর গোল খুব একটা দেখা যায় না।
বাংলাদেশকে তৃতীয় লিড এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি নামা মোসাম্মৎ সুলতানা। কেননা মায়ানমারের গোলরক্ষক বল ক্লিয়ার করতে ডি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ফাঁকা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডের নেওয়া শটটা অল্পের জন্য গোলে জড়ায়নি। অন্যদিকে ৭৭ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল মায়ানমার। রূপনার বীরত্বে অক্ষত থাকে বাংলাদেশের জাল। বদলি নামা মিয়াত নোয়ে খিন গোলরক্ষককে ড্রিবলিং করে বল জালে জড়াতে চাইলে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ধরে ফেলেন রূপনা।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এক গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৮৯ মিনিটে ব্যবধান কমানো গোলটা করেন উইন উইন। পরে আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আনন্দে দ্বিগবেদিক ছুটতে লাগেন।
Leave a Reply