1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
অভাবের সঙ্গে লড়াই করে জিপিএ-৫, অদ্বিতীয়া বৃত্তিতে স্বপ্নপূরণের গল্প - আজকের কাগজ
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সেন্টমার্টিনে খেলাধুলায় ভাটা, হতাশায় স্থানীয় খেলোয়াড়েরা চৌদ্দগ্রামে মাটির নিচে একটি মর্টার শেল সদৃশ লোহার বস্তু পুলিশ উদ্ধার করেছে জাতীয় লিগ: মেহরবের সেঞ্চুরি ও নাসুমের পাঁচ উইকেট গাজীপুর-সাভারের ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা মানিকগঞ্জে জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধন করলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা হিলিতে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত অটোরিকশায় সরকারের নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন শুরু সোমবার খারাপ ফলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির নির্দেশ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী সারাদেশে তিনদিন গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা, নিষিদ্ধ আ.লীগের ১১ জন গ্রেপ্তার

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে জিপিএ-৫, অদ্বিতীয়া বৃত্তিতে স্বপ্নপূরণের গল্প

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:১১ পিএম
শেয়ার করুন

পরিবারের চরম দারিদ্র্য আর জীবনসংগ্রাম জয় করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন একদল অদম্য মেধাবী তরুণী। তাঁর এই কষ্ট, তাঁর স্বপ্ন ছোটবেলা থেকে আমাকেও প্রভাবিত করেছে।

দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি ও ট্রাস্ট যৌথভাবে ‘অদ্বিতীয়া’ বৃত্তি প্রদান করে আসছে। দরিদ্রতম পরিবারের প্রথম মেয়েসন্তান, যাঁরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছান, তাঁদের অনুপ্রাণিত করতে দেওয়া হয় আইডিএলসি ও ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া’ বৃত্তি।

মূলত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) ছাত্রীদের এই বৃত্তি দেওয়া হয়, যেখানে আবাসন ও টিউশন ফিসহ বিভিন্ন সুবিধা পায় শিক্ষার্থীরা।

২০১২ সালে ট্রান্সকম গ্রুপের সহায়তায় ৪২ জন এবং ২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির সহায়তায় ১০১ জনসহ মোট ১৪৩ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তির আওতায় এসেছেন।

এর মধ্যে ৮৬ জনের স্নাতক সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা কর্মজীবনে ভালো অবস্থানে আছেন। এ বছর নতুন করে ১৫ জন এই বৃত্তি পেয়েছেন। ৮৬ জনের এরই মধ্যে স্নাতক শেষ হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের বাসিন্দা এক শিক্ষার্থীর গল্পটা ছিল প্রতিদিনের লড়াইয়ের। চা-শ্রমিক বাবার দিনে ১৮৭ টাকা মজুরিতে সংসার চালানোই কঠিন ছিল। অভাবের কারণে গাইড বই কেনার সাধ্য ছিল না বলে বন্ধুদের বই ধার করে পড়তেন। ইউটিউব দেখে ও বন্ধুদের নোট সংগ্রহ করে পড়াশোনা চালিয়ে ২০২২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও ২০২৪ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ মেটানো তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই এই বৃত্তি তাকে নতুন সাহস জোগাচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট চা-বাগানের একটি ছোট্ট ঘরে আমার জন্ম। একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর কোচিং করার সামর্থ্য ছিল না। বাসায় স্মার্টফোন না থাকায় মাঝেমধ্যে পিসতুতো ভাইয়ের ফোনে ইউটিউব দেখে দেখে ক্লাস করতাম। আশা করি, অদ্বিতীয়া বৃত্তি আমাকে পড়াশোনার সাহস জোগাবে, বাবার ওপরও চাপ কমবে। পড়ুন তাঁদের মধ্যে ৫ জনের গল্প। প্রতিদিন ১৮৭ টাকা তাঁর মজুরি। এখন চট্টগ্রাম শহরে পড়াশোনা করি বলে প্রতি মাসে বাড়ি থেকে টাকা পাঠাতে হয়। তবে মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, তাঁরা উচ্চশিক্ষা না পেলেও সন্তানদের শিক্ষিত করবেন। কখনো মাসে সাত হাজার টাকা আয় হতো, কখনো তার অর্ধেকেরও কম।

আরেক মেধাবীর পরিবারে চার বোন আর কৃষক বাবা, মা চা-শ্রমিক। বাবার অনিয়মিত আয় ও মায়ের সামান্য মজুরিতে সাতজনের সংসার চলে। ২০২৩ সালে এসএসসি ও ২০২৫ সালে এইচএসসি পাস করা এই শিক্ষার্থীর সংগ্রামী দিনলিপি ছিল দীর্ঘ। এছাড়া জুমচাষি পরিবারের সন্তান আরেক অদম্য শিক্ষার্থীর গল্পটাও কষ্টের। অভাবের দিনে ক্ষুধার্ত পেটে পড়াশোনা করেছেন, স্কুলের পোশাক কেনার টাকা না থাকায় অন্যের জমিতে কাজ করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ঢাকা গিয়ে কাজে যোগ দিলেও অদম্য এই তরুণী পরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বৃত্তির খোঁজ পান। এখন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ছি; কিন্তু যাতায়াত, বই-খাতা ও পড়াশোনার অন্যান্য খরচ চালানো পরিবারের জন্য খুব কঠিন। আমার দুই ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বাবাকেই বহন করতে হয়। রেজাল্ট হয়তো খুব ভালো না; কিন্তু এর পেছনে যে কী সংগ্রাম ছিল, সেটা শুধু আমি আর আমার পরিবারই জানি। চা-বাগানের শ্রমিকের সন্তান হিসেবে অভাব-অনটন খুব কাছ থেকে দেখেছি; কিন্তু কখনো পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি। এমন দিনও গেছে, ক্ষুধা পেটে রাত কাটিয়েছি।

পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে বিপাকে পড়া আরেক শিক্ষার্থীর বাবা ২০২৩ সালে কিডনি রোগে মারা যান। গৃহিণী মা সেলাইয়ের কাজের সামান্য আয়ে সংসার ও দুই সন্তানের পড়াশোনা সামলাচ্ছেন। অদ্বিতীয়া বৃত্তি পাওয়া এই শিক্ষার্থী জানান, হাতখরচের দুশ্চিন্তা কমায় এখন পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া সহজ হচ্ছে। অন্য এক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও সংগ্রামের চিত্রটা একই। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ও চরম অভাবের মাঝে বড় হওয়া এই শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে বৃত্তিসহ পড়ার সুযোগ পান। মেজ ভাই পড়াশোনা ত্যাগ করে কাজ করে তাকে সহায়তা করেছেন। এসব অদম্য মেধাবীরা তাদের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সংসারে অভাব থাকলেও বাবা সব সময় স্বপ্ন দেখেছেন, আমি পড়ালেখা করব, বড় হব।

এই বিভাগের আরো খবর