
রাজধানীর আনাচে কানাচে সড়ক ও মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই। নির্জন স্থান কিংবা অন্ধকারে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে পথচারীদের মোবাইল ফোন মানিব্যাগ সহ মূল্যবান জিনিস পত্র ও মালামাল। পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারীদের ধরতে নিয়মিতই অভিযান চালাচ্ছেন তারা। দিনের বেলা যেমন তেমন আর অন্ধকার নামলেই রাজধানীতে উৎপাত বেড়ে যায় ছিনতাইকারীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কিছুদিন কমলেও আবার বাড়ে এ ধরনের অপরাধ। নির্জন কিংবা অন্ধকার সড়ক রাজধানীবাসীর কাছে কখনো কখনো হয়ে ওঠে এক আতঙ্কের স্থান।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তুহিন সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন। ক্লাস শেষে সন্ধ্যায় ফিরছিলেন বাসায়। হঠাৎ করেই মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ রাস্তায় ৫ থেকে ৬ জন ঘিরে ধরে তাকে। গলায় পেটে অস্ত্র ঠেকিয়ে কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন ও টাকা। করে মারধরও। এমন চিত্র এ রাস্তায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় এ এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শুধু মোহাম্মদপুরই নয় মিরপুর, শাহআলী, ভাষানটেক, কালশি রোড, দারুসালাম, বেড়িবাঁধ, তাজমহল রোড, জেনেভা ক্যাম্প, বসিলাসহ আশপাশের এলাকায় এদের বিচরণ বেশি।
এমনি এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর শাহআলী থেকে ইব্রাহীম ও আলাউদ্দিন নামের সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীররাতে রূপনগরের ইস্টার্ন হাইজিং এলাকা থেকে ধাওয়া করে শাহআলী থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি লেগুনা (ঢাকা ছ ১১-০৭১১) ও একটি সুইচ গিয়ার চাকু এবং লাঠি জব্দ করা হয়। তবে পালিয়ে যায় এই চক্রের মূলহোতা লেগুনা রাসেল নামের এক ছিনতাইকারী সদস্য। এ ঘটনায় লেগুনার ভুক্তভোগী যাত্রী ইমন হোসেন মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে রূপনগর থানায় একটি মামলা করেছেন। যার মামলা নং- ৪, তারিখ- ১৬/৪/২০২৪।পুলিশ জানায়, গ্রেফতার কৃতরা মধ্যরাত থেকে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লেগুনায় ভাড়ায় যাত্রী উঠান পরে সুজোগ বুঝে লুটেনেন সব কিছু।
রাজধানীর মিরপুর, শাহআলী, মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, জেনেভা ক্যাম্প, দারুসালাম, ভাষানটেক, গাবতলী, বসিলাসহ আশপাশের এলাকায় এদের বিচরণ বেশি। লেগুনায় যাত্রী ওঠার পর নির্জন স্থান দেখে ধারালো অস্ত্র ও লাঠির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীর টাকা-পয়সা সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। কেউ টাকা দিতে রাজি না হলে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিতেন ছিনতাইকারীরা। এই চক্রের সদস্যরা চুরি-ছিনতাই ছাড়াও নানা অপরাধে জড়িত। তারা দিনে-দুপুরে গাড়ি থেকে মোবাইল টান দিয়েও নিয়ে যায়। চক্রের সদস্যরা পৃথক দলে ভাগ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিছু বড় ভাইয়ের নেতৃত্বে তারা এই কাজ করত। বিশেষ করে রাতের বেলা চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নিত সব কিছু। দিনের বেলা বড়ভাইদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় রাতের বেলা নেমে পরে ছিনতাইয়ের কাজে। গ্রেপ্তার কৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে ফের তারা এই কাজে নামেন বলে তদন্তে জানা গেছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের কাজের জন্য মাসিক ভিত্তিতে লেগুনাও ভাড়া করেছিল তারা।
এ বিষয়ে রূপনগর থানার ওসি আব্দুল মজিদ আজকের কাগজকে বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সকল আসামিদের ধরার জন্য প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারও করা হয় ছিনতাইকারী সদস্যদের। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকার নির্জন স্থানে টহল পুলিশ বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের প্রতিটি টিম এই ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যদের ধরার জন্য কাজ করছে। তবে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাকে ছোট অপরাধ বিবেচনা করায় লাগামহীন হয় পরেছে ছিনতাইকারীরা।
Leave a Reply