
রাজধানীসহ সারাদেশে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ডিজিটাল ডিভাইস “গাড়ি কোথায়” লোগো স্টিকার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবত ট্রাফিক পুলিশের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে একটি চক্র। সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত ফিটনেস ও কাগজ বিহীন ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, ডাম্পার লরিতে “গাড়ি কোথায়” লোগো স্টিকার টোকেন দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত পুলিশের চোখের সামনেই বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে অসাধু পুলিশ সদস্যদের ম্যানেজ করে গাড়িগুলো অবাধে সারাদেশে চলাচল করে। বিনিময়ে তারা মাসে মাসে টাকা দিয়েছে। এ ডিজিটাল ঘুষের বেশির ভাগ লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। চক্রের অনেকে আবার ভুয়া পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে চালক-হেলপারের কাছ থেকেও টাকা আদায় করতো। গাড়ি কোথায় অ্যাপসের আড়ালে সড়ক থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা তোলা হয়, যা চমকে ওঠার মতো বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রে জানা যায়, এই টোকেনের কারণে গণপরিবহনে নৈরাজ্য এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সড়ক আইন ও সরকারের বিধিমালা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন পরিবহন পরিচালনা করছে মালিক সমিতির নামে বিভিন্ন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। সড়ক গুলোতে বেশিরভাগ যানবাহনের ফিটনেস না থাকলেও নেপথ্যে মালিক সমিতি ও পুলিশের নামে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের টোকেন বাণিজ্যের কারণে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এ সকল টোকেন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে।
এতে দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা ও যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে। এদিকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষের মনিটরিং করার কথা থাকলেও এ ধরনের কার্যক্রম মোটেও দেখা যাচ্ছে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনের জন্য সড়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেশকিছু নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি কর্তৃপক্ষ এ নীতিমালা যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিধান রয়েছে। অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়কে সরকারি সব বিধি-বিধান উপেক্ষা করে গণপরিবহন পরিচালনা করছে টোকেন কার্ড ধারি বিভিন্ন সিন্ডিকেট। এর ফলে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, কন্টেইনার, পিকআপ ভ্যান, ডাম্পার লরি, মারুতিসহ সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে চলছে ফিটনেসবিহীন এই অবৈধ যানবাহন। পুলিশ প্রশাসন কিংবা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তেমন কোন নজরদারি না থাকায় ঢাকার সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে বেশিরভাগই লক্কর-ঝক্কর ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। আর এই সুযোগে নজরুল ট্রান্সপোর্ট “গাড়ি কোথায়” জি পি এস ব্যানারের কোম্পানির আড়ালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এমনই একটি প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত ২৬ শে মার্চ রুপনগর থানার ওসির নেতৃত্বে ইষ্টার্ন হাউজিং এর এফ ব্লকের ৪ নাম্বার রোডের ২ নাম্বার বাসায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার কৃতরা হলেন, নজরুল ট্রান্সপোর্ট “গাড়ি কোথায়” জি পি এস ট্রকার কোম্পানির মালিক ১) নজরুল ইসলাম (৪৪), ২) আলামিন (২৯), ৩) মোস্তাকিন (২১), ৪) রুবেল আহাম্মেদ (৩৫), ৫) মামুনুর রশিদ (২৭), ৬) আল আমিন হোসেন (২৫), ৭) জনি আহম্মেদ (২২), ৮) প্লাবন (২০), ৯) মোঃ নাহিদ (৩১)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, পিসি, মনিটর, হার্ডডিক্স ও মোবাইলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। পাওয়া যায় “গাড়ি কোথায়” লোগো সংঘবলিত ছাপা স্টিকার, গাড়ির নাম্বার প্লেট রেজিষ্ট্রার বহি, রেজিষ্ট্রারর ডাইরী, মানি রিসিপ্ট বহি, ইনভয়েস খাতা। এ ঘটনায় রূপনগর থানা পুলিশ বাদী হয়ে ৫৯ জন আসামি নাম উল্লেখ্য করে সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। যার মামলা নাম্বার (২০) তারিখ ২৬/৩/২০২৪।
জানা গেছে নজরুল ট্রান্সপোর্ট “গাড়ি কোথায় জিপিএস ব্যানার কোম্পানির মালিক” ফেসবুক (facebook) ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারাদেশের জেলায় জেলায় ডিলার নিয়োগ করে সারা বাংলাদেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিরাপদে নির্বিঘ্নে চলাচল করার লক্ষ্যে নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গাড়ির চালক ও মালিকের কাছ থেকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে ই-ট্রেনজেকশনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী করেন।

এ বিষয়ে রুপনগর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর রাশেদুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, “উক্ত আসামিদেরকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্ররণ করা হয়”। “জিজ্ঞাসা বাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বিজ্ঞ আদালত”। “তাদেরকে থানায় এনে এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, “এর সাথে কারা কারা জড়িত তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না”। “তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত খোলাসা করে পরে বলতে পারব বলে জানান তিনি”।
এ সকল প্রতারক সিন্ডিকেট কর্তৃক পরিবহন নিয়ন্ত্রণের কারণে বাধ্য হয়েই লোগো মার্কা স্টিকার দিয়ে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, কন্টেইনার, পিকআপ ভ্যান, ডাম্পার লরির মোত যানবাহন চালাতে হচ্ছে চালকদের। অভিযোগ রয়েছে চাঁদাবাজির বিশাল অংকের টাকার ভাগপান লাইনম্যানদের মাধ্যমে নামধারী পরিবহন নেতা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশসহ প্রভাবশালীরা। হয়রানির ভয়ে অনেকেই মুখ না খোলায় দিন দিন সড়কে বেড়েই চলেছে চাঁদাবাজ-লুটেরাদের এ দৌরাত্ম্য। পরিবহন সেক্টরের এ নৈরাজ্যের হাত থেকে রেহাই পেতে চান গণপরিবহনের মালিকরা।তবে রূপনগর থানায় মামলার সূত্র ধরে পল্লবী ও সাতক্ষীরায় মামলা হয়েছে। আরও পাঁচ-ছয়টি থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন
Leave a Reply