
দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও দলীয় পরিচয় সিনিয়র পদ পদবী দিয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরির মাধ্যমে এমডি আখতার হোসেন শাহীনের প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রয় যুবদল থেকে প্রেস রিলিজ মাধ্যমে তা প্রতারণার বিষয়ে জানানো হলে টক অফ দা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে চট্রগ্রাম যুবদলের রাজনীতি নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমডি আক্তার হোসেন শাহীনের একটি ভিজিটিং কার্ড ছড়িয়ে পড়ে। যাতে লেখা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি যে পদে তিনি কখনোই ছিলেন না এমন ভিজিটিং কার্ড কেন্দ্রীয় যুব দলের দৃষ্টিগোচর হলে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে পরিস্কার করে জানানো হয় আক্তার হোসেন শাহীন যুবদলের কেউ নয়। তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ভিজিটিং কার্ড এর মাধ্যমে নিজেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর যুবদলের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধ অপকর্ম এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার ও টেন্ডার বানিজ্য করারা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম মহানগর যুব দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত অনেকেই মনে করছেন তার এরকম প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার ফলে দলের প্রতি জনগণের আস্থা কমে আসছে! তারা মনে করছে, যুবদলের পরিচয় দিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করাই তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল। তা না হলে এই পদ পদবি দিয়ে ভিজিটিং কার্ড করার উদ্দেশ্যই বা কি ছিল তার? তা নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা এমডি আকতার হোসেন শাহিনকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা শুরু হয়।
বর্তমানে দলিও কোনো পদ-পদবী না থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি পদবি সংবলিত তাঁর একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা বিতর্কের শুরু হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের নেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি শাহিনের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। নিযের ঠিকাদারী ব্যবসার সুবাদে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হলে পরিচয় বহন করা লাগে বিধায় এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করেছেন তিনি। তার সমর্থকরা সেই ভিজিটিং কার্ড সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোন পদপদবী না থেকেও দলীয় পদ পরিচয় ব্যবহার করে এমন ভিজিটিং কার্ড তৈরি করা সাধারণ মানুষ ও দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও দলের সাথে প্রতারণার শামিল বলে মনে করেন অনেকে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এক বিবৃতিতে সংগঠনের নাম ও পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদলের নাম ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যুবদলের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
শাহিনের সমর্থকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুরু হয় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং পরে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিম বাকলিয়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাকলিয়া থানা যুবদলের ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, পুরোনো একটি ভিজিটিং কার্ডকে কেন্দ্র করে শাহিনকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবদান বিবেচনায় না নিয়ে একটি কার্ডকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিমত।
বিষয়টি নজরে আসার পর শাহিন নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বক্তব্য দিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন শাহিন।