
জাতীয় দলে খেলা মানেই বাড়তি চাপ। আর এই চাপের কারণেই নাকি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে যায়। এমনটি বলেছেন জাতীয় দলের তারকা পেসার শরিফুল ইসলাম।
সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যুগান্তরকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমনটি বলেছেন দেশের ক্রিকেটের এই সেনসেশন।
এদিন ঢাকা লিগের সুপার লিগের ম্যাচে তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমদের প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হয় নাজমুল হোসেন শান্ত ও শরিফুল ইসলামদের আবাহনী লিমিটেড।
এদিন আগে ব্যাট করে শরিফুল ইসলামের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ১৭৮ রানেই অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক। টার্গেট তাড়া করতে নেমে তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো ফিফটি আর লিটন দাসের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে অনায়াসেই জয় পায় আবাহনী।
দলের জয়ে ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা হন তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম। এদিন জয় পাওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে যায় ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনি।
এদিন খেলা শেষে এক প্রশ্নের জবাবে শরিফুল ইসলাম বলেন, দেখেন জাতীয় দলে খেললে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। এই ধরেন মোস্তফিজ ভাই তিনি আইপিএলে খেলছেন, সেখানে তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছেন। সেখানে তার উপর তেমন কোনো প্রতাশ্যা বা চাপ নেই। কারণ তাদের চেন্নাই টিমে তার মতো অনেক তারকা ক্রিকেটার রয়েছে।
অথচ মোস্তাফিজ ভাই দেশে খেললে তার ওপর অনেক চাপ থাকে। টিম ম্যানেজমেন্ট এবং দেশের এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেরও একটা আলাদা টার্গেট থাকে। যখন এই জিনিসগুলো ফুলফিল না হলে তখন এমনেতেই চাপ চলে আসে। আর এই চাপের কারণে অনেক সময় নিজের স্বাভাবসুলভ খেলাটা হয়ে ওঠে না।
আইপিএলের ১৭ত আসর চলছে। টি-টোয়েন্টি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টকে বলা হয় কোটিপতি লিগ। এখানে খেলার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকেন বিশ্বের নামিদামি তারকারা। এবারের আইপিএলে নিলামে নাম দেওয়ার পরও জাতীয় দলের খেলা থাকায় অবশেষে নাম প্রত্যাহার করে নেন তারকা পেসার শরিফুল ইসলাম।
এবারের আইপিএলে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি খুব ভালো পারফর্ম করছেন। আইপিএলের মাঝ পথে সম্প্রতি লখনৌ সুপার জায়ান্টস থেকে শরিফুল ইসলামকে খেলার জন্য কয়েক কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কিন্তু জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আগামী মাসে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজ ও শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থাকায় আইপিএলের প্রস্তাব নাকোচ করে দেন শরিফুল।
এ ব্যাপারে শরিফুল বলেন, টাকাই সব নয়। আগে আমার দেশ। দেশের খেলা থাকলে কি করে আমি আইপিএল খেলতে যাই। আমাকে আইপিএলে খেলার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেশের কথা চিন্তা করে না করে দিয়েছি। কারণ সামনে আমাদের জিম্বাবুয়ে সিরিজম এরপর শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলা আছে। তারপর বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি জোরদারে এই দুটি সিরিজ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।