
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি এরশাদ করেন, ‘তুমি পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো এবং তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে এমন জ্ঞান যা সে জানত না।’ (সুরা আলাক: ১-৫)
সাধারণত জ্ঞান দুই প্রকার—ধর্মীয় ও জাগতিক। ধর্মীয় জ্ঞান দুই প্রকার—ফরজে আইন ও ফরজে কিফায়া। আর জাগতিক শিক্ষা তিন প্রকার—ফরজ কিফায়া, মুবাহ ও নাজায়েজ।
দৈনন্দিন জীবনে যেসব ইবাদত পালন করতে হয়, তা আদায় করার জ্ঞান অর্জন করা সব মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ। আর ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় জ্ঞান শেখা ফরজে কিফায়া। তেমনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জাগতিক জ্ঞান শেখা ফরজে কিফায়া। আর যেসব জ্ঞানে গুনাহ ও পাপ রয়েছে, তা শেখা হারাম। এ ছাড়া যেসব জ্ঞান মানুষের প্রয়োজন নেই; তবে শিখলে কোনো না কোনো উপকার হয়, তা শেখা বৈধ। নবী (সা.) প্রথম প্রকারের ব্যাপারে বলেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা সকল নর-নারীর জন্য ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ: ২২৪)
নৈতিক ও কল্যাণকর শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। যা কিছু পাপের পথে নিয়ে যায়, আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় এবং মানবতার জন্য ক্ষতির কারণ হয়, তা কখনোই জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে না। আর ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে চরিত্রবান, মহান ও আদর্শিক হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং উন্নত জীবনবোধসম্পন্ন সুনাগরিক তৈরি করে।
লেখক: ড. মুফতি হুমায়ুন কবির,সহকারী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
Leave a Reply