
টেকনাফের নাফ নদী থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ১৪ জন জেলে অবশেষে মুক্তিপণের বিনিময়ে দেশে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনটি মাছ ধরার নৌকাসহ তারা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম সৈকতে পৌঁছান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দালালের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর জেলেদের ছেড়ে দেয় আরাকান আর্মি। এর আগে গত শনিবার নাফ নদী সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে গুলি ছুঁড়ে ভয় দেখিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফিরে আসা জেলে রহিম উল্লাহ জানান, তারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। আটক অবস্থায় তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। মারধর করা হয়েছে এবং খাবারও দেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি যেন কেউ প্রকাশ না করে সে জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছে। নৌকার মাঝি মালাই কালুর মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরেক জেলে গিয়াস উদ্দিনের মা রশিদা খাতুন বলেন, “আমার তিন ছেলেসহ পরিবারের পাঁচজন ফিরে এসেছে। এতদিন আমরা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন তারা ফিরে আসায় স্বস্তি পেয়েছি।”
জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, রাতে নৌকাযোগে আটক জেলেরা ফিরেছে। তবে তারা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, তিনটি নৌকাসহ ১৪ জেলে ফিরে এসেছে। তারা কীভাবে মুক্তি পেয়েছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
Leave a Reply