
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নারী নির্যাতন মামলা তুলে না নেওয়ায় বউ ও শাশুড়িকে মারধর করাসহ বাড়ি ভাংচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মামুনুর রশিদের মেয়ে মোসদ্দেকা মিতুর সঙ্গে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল একই এলাকার শাহা আলমের ছেলে সাইদুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মিতুকে যৌতুকের জন্য চাপ দেন তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন। যৌতুক না পেয়ে বিভিন্ন সময় মিতুর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে সাইদুলের পরিবার। পরে উপায় না পেয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক মামলা করেন মিতু। এরপর থেকেই মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দেন সাইদুল।
মামলা তুলে না নেওয়ায় গতকাল দুপুরে মিতুর স্বামী সাইদুল, শ্বশুড় শাহ আলম, শাশুড়ি শহর বানুসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন মিতুর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মিতুর বাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট করে। এ সময় মিতু ও তার মা বিলকিস তাদের বাধা দিলে তাদেরকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুত্ব আহত অবস্থায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে মিতুর বাবা মামুনুর রশিদ জানান, ‘জামাইয়ের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে আমার মেয়ে। মামলা তুলে নিতে জামাইয়ের পরিবার থেকে বিভিন্ন রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মামলা তুলে না নেওয়ায় আমার বাড়িতে জামাইসহ তার বাবা মা এবং আত্মীয়-স্বজনরা আমার মেয়ে ও স্ত্রীকে মারধর করেছে।’
সাইদুরের মা শহর বানু জানান, ‘আমরা কোনো কিছু করিনি। আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য আমার মেয়ের শ্বশুড় বাড়ির লোকজন ষড়যন্ত্র করছে।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply