1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
পাবনায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, সাত দিনে ৭ খুন - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

পাবনায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, সাত দিনে ৭ খুন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ৮:৫৭ পিএম
শেয়ার করুন

পাবনায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও সহিংস ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনে জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় পৃথক ঘটনায় এক চরমপন্থী সদস্য, এক কলেজছাত্র, এক স্কুলছাত্রীসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেল ও সন্ধ্যায় পাবনা শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও চরমপন্থী সংগঠন নকশালের সদস্য আলী হোসেন (৫৩) সন্তানকে শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে যান। রিকশায় করে মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক তার ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি বিরোধের জেরে মনিরুল ইসলাম (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাত করা হয়। অভিযুক্ত রাকিব (২২) নামে এক যুবক তাকে ছুরিকাঘাত করে পাশের একটি পুকুরে আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মনিরুলের মৃত্যু হয়।এদিকে প্রেমঘটিত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৩ জুন ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুন (১৫)-কে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় পদ্মা নদীর তীরে পাওয়া যায়।

ঘটনার প্রতিবাদে ৪ জুন রিয়ার দাফন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নাঈমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন শেখ (৩৫), সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২০) ও সাপু (২১) মারা যান।

অন্যদিকে গত ২ জুন পাবনা মানসিক হাসপাতালে আবাসিক ওয়ার্ডে দুই রোগীর সংঘর্ষে ইনজামুল হক (২৬) নামে এক রোগী নিহত হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অবস্থায় সিরাজগঞ্জের নাজমুল (২৮) ও ইনজামুলের মধ্যে গভীর রাতে সংঘর্ষ হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই ইনজামুলের মৃত্যু হয়।

একের পর এক এসব ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একই দিনে দুটি হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। অনেকের ধারণা, জেলায় চরমপন্থী তৎপরতা আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

শহরের শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মেয়েকে নিয়ে আমি খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কাজের ক্ষতি হলেও নিজেই তাদের স্কুল ও কোচিংয়ে আনা-নেওয়া করছি। বর্তমান পরিস্থিতিকে আমি সন্তানদের জন্য নিরাপদ মনে করছি না।’

এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, আলী হোসেন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চরমপন্থীদের পুনরুত্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রোজার ঈদের পর কোথাও পোস্টারিংয়ের খবর পেয়েছিলাম। পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে। তবে বাস্তবে কোনো পোস্টার পাওয়া যায়নি।’

কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানেই কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য পাচ্ছি, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করছি। সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজি মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে অনিয়মিতভাবে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য জেলার মতো পাবনাও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। পাবনাবাসীর মধ্যে কোনো ধরনের অস্বস্তি রয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

এই বিভাগের আরো খবর