1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ফুটপাত চাঁদাবাজদের কাছে অসহায় প্রসাশন ! - আজকের কাগজ
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখা যাবে ইউটিউবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান: দলীয় নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ পরিচালনা হচ্ছে: স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা কোচিং সেন্টার: ববি হাজ্জাজ ‘মেসি কী করবে, আগে বোঝা যায় না’ ফুটপাতে সন্তান প্রসব মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর, দায়িত্ব নিল প্রশাসন হিলিতে ঈদ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য লিজেন্ডস ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত আদ-দ্বীনের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণ ত্রুটি পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিড়িয়াখানায় মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কে দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় নির্বাচনের আগে আর্মেনিয়ার পশ্চিমমুখী অবস্থান ঠেকাতে রাশিয়ার গোপন তৎপরতার অভিযোগ

ফুটপাত চাঁদাবাজদের কাছে অসহায় প্রসাশন !

এস এম রাসেল
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৪ ১:১৭ পিএম
শেয়ার করুন

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা হচ্ছে মিরপুর। এখানে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের চলাচল রয়েছে। গুলিস্তানের পরই সবচেয়ে বড় বড় মার্কেট ও পাইকারী কাচাঁবাজার হওয়াতে বেশি মানুষের পদচারণা থাকে প্রতিদিন। পথচারীদের এক মাত্র চলার পথ হচ্ছে ফুটপাত। তবে বেশির ভাগ ফুটপাত ধরে হাঁটার উপায় নেই। দিনে কিংবা রাতের সবসময়ই সাধারন মানুষ যাতায়াত করে এই পাইকারী কাচাঁবাজা ও মার্কেটের গুলোতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দারুসসালাম থানাধীন ক্যাপিটাল টাওয়ারের রাস্তার এক পাশের ফুটপাত ও সড়ক জুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট।ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীরা বাধ্য হন রাস্তায় নেমে চলতে। যত্রতত্র গাড়ি ও রিকশা পার্কিং তো রয়েছেই।ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুলিশ ও নেতাদের ম্যানেজ করেই ব্যবসা চালাচ্ছেন তারা। যে মিরপুরে এত পথচারী অথচ সেখানে ফুটপাত ধরে হেঁটে চলাচল করার কোনো সুব্যবস্থা নেই। এছাড়াও দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি পাচ্ছে না মুক্তি প্লাজা সামনের ফুটপাত ও সড়ক গুলো। পুরো ফুটপাতজুড়েই গিজগিজ করছে দোকান আর দোকান। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে রকমারি দেকান সাজিয়ে রেখেছে অবৈধ দখলদার।ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো পরিস্থিতি নেই তাই বাধ্য হয়ে পথচারীরা নেমে এসেছেন মূল সড়কে। যে কারণে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সেই সঙ্গে তো থাকছে পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

মিরপুর ১ নম্বরের এলাকাজুড়ে ফুটপাতগুলো হকাররা দখল করে ব্যবসা করলেও এর নেপথ্যে আছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হকাররাও এসব সিন্ডিকেটের কাছে এক প্রকার জিম্মি। প্রতিদিনই চলছে হকারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি। কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে তাদের এ আধিপত্য টিকে থাকছে ! কারাইবা রয়েছে এর পেছনে ? যে কারণে উচ্ছেদ করার পরও দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না ফুটপাত গুলো।ফুটপাত দখল করা হকারদের কোনোমতেই ঠেকাতে পারছে না ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

ক্যাপিটাল টাওয়ারের সামনের সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক নারী এ সময়ে অটোরিকশাচালক হর্ন বাজিয়ে বলছিলেন’ আপা একটু সাইড দিয়ে হেঁটে যান’। চালকের কথা শুনে ঐ নারী বলছেন ‘কোথায় যাব ভাই ? ফুটপাতে তো হাটার উপায় নাই ! ফুটপাতে দোকান শাড়ি শাড়ি !” আর রাস্তায় আছে গাড়ি, বিপাকে আমাদের মতো পথচারী”। কথা হয় ঐ নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, পুরো ১ নাম্বার জুড়ে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। সবগুলো ফুটপাতে অতিরিক্ত দোকান, তার মধ্যে মানুষের হেঁটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এত ভিড় থাকে যেখানে পুরুষ মানুষই হাঁটতে পারে না আর আমরা মেয়ে মানুষ কীভাবে হাঁটব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুক্তি প্লাজার সানের এক দোকানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে দোকান করি। মৌসুম বুঝে বিভিন্ন ব্যবসা করি। ব্যবসার খাতিরে দোকান চালাতে গিয়ে অনেকবার উচ্ছেদ হয়েছি কিন্তু আবার ফিরে এসেছি। লাইনম্যান নুরুকে নগদ টাকা দিয়ে ব্যবসা করে টিকে আছি। তিনি বলেন, ফুটপাত আসলে মানুষের হাঁটার জন্য কিন্তু আমরা এখানে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে খাচ্ছি। আমাদের দোষ দিয়ে লাভ কি বলেন? কারণ এখানে অনেক শক্তিশালী সিন্ডিকেট আছে যারা প্রতিদিন চাঁদা নেয়। যে কারণে উচ্ছেদ অভিযানের পরও আমরা ফিরে এসে আবার দোকান নিয়ে বসতে পারি। যারা দখল করে রেখেছে তাদের কাছে আপনারা সাংবাদিক কিছুই না !

শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্স এর সামনের হকার সূত্রে জানা গেছে, শার্ট, প্যান্টের ছোট দোকানের জন্য প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আর জুতা ও আরেকটু বড় দোকানের জন্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় তাদের। কিন্তু এসব টাকা মূলত কাদের হাতে যাচ্ছে এর উত্তর দিতে নারাজ তারা। তাদের ভাষায় তারা শুধু লাইনম্যানকেই চেনে যারা সন্ধার পর এসে প্রতিদিন টাকা নিয়ে যায়।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শাহ আলীথানা এলাকার অবৈধ ফুটপাত কিছু অংশে দখল মুক্ত করা হলেও দারুসসালাম থানা এলাকার ফুটপাত এখনো দখল মুক্ত হয়নি বরং পুলিশের চোখের সামনেই দখল করে রেখেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দারুস সালাম ধানাধীন মিরপুরের-১ নম্বার  ক্যাপিটেল টাওয়ারের সামনে থেকে ডেল্টা চাইনিজ পর্যন্ত যে সব দোকান রয়েছে , প্রতি দোকান থেকে চাঁদা উত্তোলন করতেন আকবর। তবে র‍্যাবের হাতে আকবর গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে এসে আবারও সেই চাদঁবাজীতে লিপ্ত রয়েছেন তিনি ও তার চাঁদাবাজ বাহীনি। মুক্তি প্লাজার সামনে দোকান গুলোর চাঁদা আদায় কারি নুরু। তিনি প্রতিটি দোকান থেকে এখনো ২০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। র‍্যাবের হাতে নুরুও গ্রেফতার পর জামিনে এসে আবারও সেই চাঁদাবাজী করছে তিনিও তার লোকজন। হক প্লাজার সামনে থেকে চাঁদা উত্তোলন করেন মনির ও মিরাজ পরে সেই টাকা চলে যায় হকের ছেলে হিরুর কাছে। এখানে দোকান রয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টি । এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০টাকা থেকে ৩৫০টাকা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এছারাও শাহআলী শপিং কমপ্লেক্স থেকে সমশের মার্কেট পর্যন্ত অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩৫০ টির বেশি দোকান এ সকল দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হারে নিয়মিত ভাবে চাঁদার টাকা তোলা হয়। এই চাঁদার টাকা তুলছেন সমিতির নামকরে জুলফিকার ও শামিম পরে সেই টাকা চলে যাচ্ছে মোঃ হান্নান (৬৭) ওরফে ডেকোরেটার হান্নানের কাছে। এ সকল দোকান থেকে চাঁদা তুলছে পুলিশ, মার্কেট কমিটি ও স্থানীয় কতিপয় নেতাদের নামে। সর্বনিম্ন ২০০ টাকা করে চাঁদা নিলেও প্রতিদিন তার পরিমান হয় ৭০ হাজার টাকা। যা মাসের শেষে এর পরিমান গিয়ে দাড়ায় ২১ লক্ষ টাকা, আর বছরে গিয়ে হয় তা ২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা! চাঁদা তোলার বিষয়ে মোঃ জুলফিকার বলেন, সমিতির কালেকশন বলে এরিয়ে জান, কি বলবো সবিতো জানেন ! দাওয়াত রইলো চাঁ খাবেন।

অন্যদিকে আকবর বলেন, আমি আগে ছিলাম এহন নাই হাসপাতলে আছি পরে কথা কমুনে ভাই। আর কলেজ মার্কেটের নারী লাইনম্যান পারভিনের সাথে ফুট দখল করে চাঁদার নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করাহলে তিনি অন্যকথা বলে এরিয়ে জান এবং তাড়াহুড়া করে শটকে পরেন সেখান থেকে। ফুটপাত যেনো এদের কাছে টাকা কামানোর মেশিন আর স্থানীয় চাঁদাবাজদের টাকা ইনকামের অভিনব পথ। আর এসব স্বার্থলোভী মহলের কারনে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে রাস্তায় যানজট, অন্যদিকে পাথচারিদের চলাচল করতে হচ্ছে রাস্তার উপর দিয়ে, এর ফলে বাড়ছে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা। অকালে ঝরছে কোমলমতি প্রান আর পরিবার হারাচ্ছে তাদের আপন জনকে এ যেন দেখার কেহ নেই? অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে সড়কের ফুটপাত। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে চাঁদাবাজী বন্ধে কঠোর হুশিয়ার করেছেন সেখানে কার ইশারায় করছে এ চাঁদাবাজী ?

তবে এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা উচ্ছেদ করি, উচ্ছেদের পর পুলিশের নজরদারি না থাকার কারণেই দখলমুক্ত থাকছে না ফুটপাত। তিনি জানান, স্থানীয় থানা পুলিশ যদি ফুটপাত দখল মুক্ত করে নিয়ন্ত্রণে না রাখে তাহলে এটা পৃথিবীর কেউ দখল মুক্ত রাখতে পারবে না। ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব হচ্ছে পেট্রোল ইন্সেপেক্টর (পিআই) তবে তিনিই বা কি করছে ? তার দায়িত্ব কি পালন করছেন? তিনি কি ফুটপাত দখল মুক্ত রাখছেন! স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরই বা কি করছেন? তারাই বা কেন এর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না ? এমন প্রশ্ন এখন অনেকের।

তবে এ বিষয়ে দারুসালাম জোনের পেট্রোল ইন্সেপেক্টর (পিআই) জাহিদুল বক্সীর কাছে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত ফুটপাথ দখল মুক্ত করি এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। তার পরেও এরা ফুটপাত দখল করে বসে, এদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি। চলবে….

এই বিভাগের আরো খবর