
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অধরা থেকে গেছে তার স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফিও। তবে মাঠের লড়াইয়ে ছিটকে পড়লেও আর্থিক দিক থেকে এখনও তিনি শীর্ষে। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদের মালিক রোনালদো, আর তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। ফুটবলের এই দুই মহাতারকা এবারও বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারের তালিকায় প্রথম দুই অবস্থান দখল করে ইতিহাস গড়েছেন।
শুধু তাই নয়, এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন দুই বিলিয়নিয়ার ফুটবলার। রোনালদো বাদ পড়েও আলোচনায়। আর সেমিফাইনালে উঠে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি রয়েছেন লাইমলাইটে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে দাপটের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন এলএমটেন।
ফোর্বসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর লিওনেল মেসির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে খেলোয়াড় হিসেবে সক্রিয় থাকা অবস্থায় বিলিয়নিয়ার হওয়া বিশ্বের মাত্র চারজন ক্রীড়াবিদের মধ্যে রয়েছেন রোনালদো ও মেসি। বাকি দুজন হলেন এনবিএ তারকা লেব্রন জেমস এবং কিংবদন্তি গলফার টাইগার উডস।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো গত চার বছর ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ক্রীড়াবিদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। গত ১২ মাসে কর ও এজেন্ট ফি বাদে তার মোট আয় প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারও। দুইয়ে থাকা মেসির আয় ১৪০ মিলিয়ন ডলার।
এদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফোর্বসের ভাষ্যমতে, বার্সেলোনা, প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন (পিএসজি) এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলে লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারে চুক্তি থেকে প্রায় ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছেন।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর রোনালদোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরে প্রায় ১৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা বোনাসসহ তার ক্যারিয়ার আয়কে প্রায় ১.২৬ বিলিয়ন পাউন্ডে নিয়ে গেছেন।
মাঠের বাইরেও দুজনের বিপুল আয় রয়েছে। রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাইকি, হারবালাইফ এবং নিজের সিআর৭ ব্র্যান্ড থেকে বছরে প্রায় ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেন। অন্যদিকে, মেসির রয়েছে পেপসি, হার্ড রক এবং অ্যাডিডাসের সঙ্গে আজীবন চুক্তিসহ একাধিক লাভজনক করপোরেট অংশীদারিত্ব। এসব চুক্তি থেকে তিনি বছরে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেন।
এদিকে, এই দুই তারকার পাশাপাশি ফুটবলের বিলিয়নিয়ারদের বিশেষ তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যামও। চলতি বছরের মে মাসে তিনি এক বিলিয়ন পাউন্ড সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রথম ব্রিটিশ ক্রীড়াবিদ হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন বেকহ্যাম।
বিশ্বকাপে বাকিদের কার আয় কতো এক নজরে দেখে নেয়া যাক:
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৩০০ মিলিয়ন ডলার
লিওনেল মেসি ১৪০ মিলিয়ন ডলার
কিলিয়ান এমবাপ্পে ৯৫ মিলিয়ন ডলার
আর্লিং হ্যালান্ড ৮০ মিলিয়ন ডলার
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৬০ মিলিয়ন ডলার
মোহাম্মদ সালাহ ৫৫ মিলিয়ন ডলার