
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্স ১৫ দিনের ব্যবধানে পুনরায় খোলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি দানবাক্স ভেঙে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। এই অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমির অন্তত ১৫ জন কর্মচারী সহায়তা করেছেন। গণনা শেষে প্রাপ্ত এই পুরো অর্থ লালন একাডেমির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ফকির, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। সারা বছরই ভক্তরা মাজার দর্শনে এসে দানবাক্সে অর্থ দেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বছরে চারবার লালন সাঁইয়ের উৎসবকে কেন্দ্র করে এই দানবাক্স খোলার নিয়ম রয়েছে। এর আগে ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা হয়েছিল, যেখানে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া যায়। এরপর সোমবার পুনরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশ্যে টাকা গোনার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবার প্রকাশ্যে খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, সাড়ে ৩ ঘণ্টা চলে গণনা।
দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার বিষয়টি অস্পষ্ট থাকলেও সম্প্রতি প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। আখড়াবাড়ির সাধক কল্পনা জানান, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দান করা এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে আখড়াবাড়ির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহি তৈরি হবে। আখড়াবাড়িতে থাকা কল্পনা বলেন, ‘আমরা চাই দানবাক্সের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হোক।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স থেকে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং উৎসবের তিন দিন পর ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। মূলত লালন শাহর তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় বড় পরিসরে আয়োজনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে, যারা মাজার প্রাঙ্গণে দান করে থাকেন। বর্তমানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই নিয়মিত তদারকি বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।