1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
সুরস্রষ্টা মান্না দে'র জন্মদিন আজ - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি উত্তরায় মার্কেটে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় মামলা, আসামি ৭০০ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব দেশকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে ইরান সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান হাতিয়ার ইউএনওর অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বিএনপি জনগণের রায়ে বিশ্বাসী বলেই জনগণের জন্য কাজ করে-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম র‍্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম ভর্তি পরীক্ষায় লটারি পদ্ধতি বাতিল: শিক্ষামন্ত্রী

সুরস্রষ্টা মান্না দে’র জন্মদিন আজ

উজ্জ্বল কুমার সরকার
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ মে, ২০২৪ ৭:১৩ পিএম
শেয়ার করুন

আজ পহেলা মে আধুনিক বাংলা গানের শতাব্দীর অন্যতম কণ্ঠশিল্পী, সুরস্রষ্টা মান্না দে’র জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।
শতায়ু হতে চেয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “একশো বছর বেঁচে থেকে গান গাইতে চাই।” হল না। ৯৪’তে চলে গেলেন বাংলা গানের লাস্ট লিয়র। বয়সের নিরিখে এ হয়তো অকালবিদায় নয়, কিন্তু তাঁর চলে যাওয়া, আক্ষরিক অর্থে, এক শূন্যতা তৈরি করল ভারতীয় সঙ্গীতে। কারণ ধ্রুপদী গানের শিল্পী না হয়েও আসমুদ্রহিমাচল ছাড়িয়ে বিদেশেও তাঁর নামের বিস্তার। আর কোনও বাঙালি শিল্পীর ক্ষেত্রে এমনটি সুলভ নয়। সে দিক থেকে মান্না দে-র মৃত্যু এক অনন্য প্রতিভার অবসান।
বাংলা, হিন্দি তো আছেই। তা ছাড়াও প্রায় সব প্রধান ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। তামিল-মালয়ালি-ভোজপুরি-কোঙ্কনি, কী নেই তাঁর গাওয়া তিন হাজার গানের তালিকায়! আর সেই বিস্তারের জোরেই বোধ হয় ঘনিষ্ঠ মহলে রসিকতা করে বলতে পারতেন, ‘আমার সৌভাগ্য, ধানবাদের ও পারেও লোকে আমাকে চেনে। আমার গান জানে।’ এই উক্তি নিছক অহমিকা ভাবলে হয়তো অবিচার হবে।
কিন্তু মান্না দে যতটা বাঙালি শিল্পী, ততটাই কি বাংলার? এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই সম্ভবত রয়ে গিয়েছে ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে মান্না দে-র যাত্রাপথটি, যে পথে অনেক সাফল্য, কিছু ব্যর্থতাও। ১ মে ১৯১৯, উত্তর কলকাতার ন’নম্বর মদন ঘোষ লেনে পূর্ণচন্দ্র দে এবং মহামায়া দেবীর সংসারে শুরু সেই জীবনযাত্রার। উত্তর কলকাতার সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে বড় হচ্ছিলেন ‘প্রবোধচন্দ্র’। গোবর গোহের আখড়ায় কুস্তিচর্চা, স্কটিশ চার্চ কলেজের ক্যান্টিনে টেবিল বাজিয়ে গান, জীবন কাটছিল এই ভাবেই। তার পরে এক দিন প্রবোধচন্দ্র হারিয়ে গেলেন স্কটিশ চার্চ স্কুল ও কলেজের কাগুজে খাতায়। রয়ে গেল ডাকনাম মানা থেকে হয়ে ওঠা ‘মান্না’। সে নামই রয়ে গেল অগণিত সঙ্গীতপ্রেমীর হৃদয়ে।
কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে-র ছায়ায় বেড়ে উঠলেও মান্নার গাইয়ে হওয়ার স্বপ্ন ছিল না। গান বলতে অফ পিরিয়ডে টেবিল বাজিয়ে শচীনকর্তা, কানাকেষ্টর গান গাওয়া। সেই আসরের সঙ্গীরাই এক দিন এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন তাঁর, সেই সূত্রেই কাকার কাছে গান শেখা এবং নানা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন। সেই প্রথম স্থানটা বলিউডের বড় যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় বজায় থাকেনি। কৃষ্ণচন্দ্র দে-র সহকারী হিসেবে শুরু হয়েছিল সদ্য কুড়ি পেরোনো মান্না দে-র যাত্রা। ‘তমান্না’ ছবিতে সুরাইয়ার সঙ্গে ডুয়েট এবং শঙ্কর রাও ব্যাসের সুরে ‘রামরাজ্য’ ছবিতে একক কণ্ঠে প্রথম প্লেব্যাক ভরসা জোগাল না তেমন। কিন্তু কাকার সঙ্গে বাংলায় ফিরলেন না মান্না, জড়িয়ে রইলেন বলিউড-বৃত্তে। সে থাকা সার্থক হল ১৯৫০-এ, শচীন দেববর্মনের সুরে ‘মশাল’ ছবিতে গাইলেন ‘উপর গগন বিশাল’। এই গানটিই যেন তাঁর গতিপথ নির্ধারণ করে দিল।
পুরুষালি নায়কোচিত কণ্ঠ বলতে তখন যা বোঝাত, সেটা তাঁর ছিল না। সেই বৈশিষ্ট্যের জন্যই হয়তো নায়কের গানের জন্য বিশেষ ডাক পাননি তিনি। সে দিনের রফি, মুকেশ, হেমন্তকুমার, তালাত মাহমুদ, কিশোরের দাপুটে প্লে-ব্যাক বৃত্তে নায়ক বা প্রধান চরিত্রের লিপে বড় একটা জায়গা হয়নি তাঁর। প্রধানত পৌরাণিক-ধর্মমূলক ছবিতেই ডাক পেতেন। তবে শঙ্কর জয়কিষণ, শচীন দেববর্মন, সলিল চৌধুরী এবং উত্তরকালে রাহুল দেববর্মনের মতো সঙ্গীত পরিচালক মান্নার গায়কী বুঝে তাঁর কণ্ঠে তুলে দিয়েছেন কিছু উল্লেখযোগ্য চিত্রগীতি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বলিউডে নিজের নাম লিখেছেন মান্না।

আওয়ারা, পরিণীতা, দো বিঘা জমিন পেরিয়ে শ্রী ৪২০ ছবিতে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ‘আনন্দ’ ছবির ‘জিন্দেগি ক্যায়সি হ্যায় পহেলি’ রেকর্ড গড়েছে। শোলে, পড়োশন, জঞ্জীর-এর মতো ছবিতে এমনকী কিশোরকুমারের সঙ্গেও পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন মান্না। তবু প্লে-ব্যাক গাইয়েদের প্রথম সারিতে কোনও দিনই আসতে পারেননি। ধ্রুপদ-ধামার থেকে ভজন কীর্তন পর্যন্ত নানা ধারার তালিমে সমৃদ্ধ মান্না রাগাশ্রয়ী গানের ক্ষেত্রে সঙ্গীত পরিচালকদের কাছে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। আর সেই নির্ভরতার জায়গাতেই নায়কের লিপে বেশি গান না পেলেও তাঁকে মুম্বইয়ে থেকে যেতে হয়েছে তাঁর সংগীতজীবনের সেরা সময়টা।

প্রধানত বলরাজ সাহনি-মেহমুদ-প্রাণ এর মতো অভিনেতার জন্যই তাঁকে প্লে-ব্যাক করতে হয়েছে। হীরকখণ্ডের মতো এক একটি কম্পোজিশনে প্রাণ দিয়েছে মান্নার কণ্ঠ, শিল্পী হিসেবে তাঁর জাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বার বার। মুম্বইয়ে চল্লিশ বছরের প্লে-ব্যাক কেরিয়ারে মান্না দের গানের সংখ্যা তাই তিনশোর কম, অর্থাৎ গড়ে বছরে সাত-আটটি। মুম্বই তাঁকে যতটা ‘সমীহ’ বা ‘গুরুত্ব’ দিয়েছে ততটা সুযোগ দেয়নি। অথচ এই অবকাশেই তিনি ধ্রুপদী শিক্ষায় পারদর্শী বহুমুখী শিল্পী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। কিছুটা মুম্বইয়ে প্রত্যাশা মতো গুরুত্ব না পাওয়ার কারণেই সম্ভবত পুরোপুরি বাংলা গানে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। মুম্বইয়ে থাকার সময়েও বাংলা গান গেয়েছেন। অবশ্য তা অনেকটা অতিথি শিল্পীর মতো। ১৯৫৩-য় তাঁর প্রথম বাংলা বেসিক গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। তার পরে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বাংলা বেসিক গানে ধারাবাহিক ভাবে সামর্থ্য বিনিয়োগ করে গেলেও অতিথি হয়েই রইলেন তিনি, বাংলার শিল্পীর দৈনন্দিন সংগীতযাত্রার অংশীদার হয়ে উঠতে পারেননি। হয়তো চেয়েছিলেন সেটা, তাই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের কাছে পাকাপাকি ভাবে বাংলায় থেকে কৃষ্ণচন্দ্র দে-র নামে সঙ্গীত অ্যাকাডেমি গড়বেন বলে জমি চেয়েছিলেন। যে ভাবে সেই পরিকল্পনা করেছিলেন সে ভাবে জমি পাননি, ফলে অভিমান নিয়ে ফিরে গিয়েছেন। মুম্বই থেকে সরে থাকা এবং কলকাতায় পাকাপাকি ভাবে ফিরতে না পারার অভিমানই হয়তো তাঁকে বেঙ্গালুরুতে ঠেলে দেয়। সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে এ তাঁর এক রকম স্বেচ্ছানির্বাসনই। তবে সংগীতজীবনের শেষ কিছু কাল ধরে বেঙ্গালুরু-প্রবাসী মান্না দে আক্ষরিক অর্থে শুধু কলকাতার বা বাংলার শিল্পী হয়েই ছিলেন। গানের সূত্রেই যোগাযোগ ছিল কলকাতার সঙ্গে, মুম্বইয়ের সঙ্গে যে যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *