
রাজধানী মিরপুর শাহ্আলী থানার উত্তর বিশিল কুসুমবাগ বালুর মাঠ এলাকার এক নাম্বার রোডে জীবন নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে কতিপয় দুর্বৃত্তরা এর ফলে গুরুতর আহত হয় সে। ঈদের দিন সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা দিনা আক্তার বাদী হয়ে শাহ্আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে, যার মামলা নং-১ তারিখ -(১/৪/২০২৫) । অভিযুক্ত আসামিরা হচ্ছেন স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাতুল, বিজয় ওরফে কাল্লু বিজয়, মিলন ও হীরা সহ অজ্ঞাত ১২/১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্ত জীবনে মা দিনা আক্তার “আজকের কাগজকে” বলেন, হামলার কয়েকদিন পার হওয়ার পরেও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়া ভুক্তভুগীর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে দিন যাপন করছে। আসামির পক্ষ থেকে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, হোসেন গ্রুপের ও মনির গ্রুপ এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়শই উভয় গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়। গত ৩১ মার্চ সোমবার অনুমান রাত ৮ টার দিকে আমার বাসার সামনে হোসেন গ্রুপ এবং মনির গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। এ সময় আমার ছেলে মোঃ জীবন মিয়া (১৫) আমার বাসা সামনে পাকা রাস্তার উপর দাঁড়ানো ছিল। উপরোক্ত আসামীরা বেআইনী ভাবে আমার ছেলের উপর অতর্কিত আক্রমন করে মারধর শুরু করে। তখন দৌড়ে বাসার ভিতরে প্রবেশ করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মারার জন্য বাসার ভিতরে প্রবেশ করে ধারালো চাকু দিয়ে জীবনের ডান হাতের কবজি ও পায়ে আঘাত করে কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আসামী রাতুল, মিলন, হিরা, কাল্লুসহ অজ্ঞাতনামা ১২/১৪ জন এলোপাথারী মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা রক্তাক্ত জখম করে। তখন তার ডাক-চিৎকারে আমি সহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে উপরোক্ত আসামিরা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল হতে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নিয়ে আমি জীবনকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ছেলেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই। ভুক্তভোগী জানায়, অতি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের জন্য জোর সুপারিশ সহ উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শাহ্আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অতি দ্রুতই তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।