
ছাদের সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেই বিদ্যুৎ আবার যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে নতুন যাত্রা শুরু করেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে ৭২টি সৌর প্যানেল বসিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ ‘ডিসি কুড়িগ্রাম’-এ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ছবিসহ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) সাইফুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ৭২টি প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে দুটি অনগ্রিড ইনভার্টার। গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থাপনকাজ শেষ হওয়ার পর ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
এনডিসি সাইফুদ্দীন জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ‘র্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’ কাজটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পায়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে সূর্যালোকের তীব্রতা অনুযায়ী উৎপাদনের পরিমাণ কমবেশি হবে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও মোট ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় করে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৪৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে প্যানেলের সংখ্যা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হবে।
সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।