1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
জমি দখলকে ঘিরে ফিরছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুরোনো নেটওয়ার্ক - আজকের কাগজ
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নৌপথের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৫ অক্টোবর জমি দখলকে ঘিরে ফিরছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুরোনো নেটওয়ার্ক অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম জানাল মন্ত্রণালয় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত এলপিজির কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর সার সংকটকে ইস্যু বানিয়ে বিএনপিকে হেয় করার চক্রান্ত! ববিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৪৮শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা

জমি দখলকে ঘিরে ফিরছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুরোনো নেটওয়ার্ক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:২২ পিএম
শেয়ার করুন

রাজধানীতে বিরোধপূর্ণ জমি দখলকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে পুরোনো অপরাধী নেটওয়ার্ক। সাম্প্রতিক সময়ে ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজ, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরও পড়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতার দিকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারে পুরোনো নেটওয়ার্কের কৌশল পুরোপুরি বদলায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিরোধপূর্ণ জমি দখলের ক্ষেত্রে সরাসরি মাঠে না থেকে নেপথ্য থেকে অপরাধীচক্রকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ক্যাডারদের মাধ্যমে হামলা, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি এবং জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় হাউজিং প্রকল্প, সরকারি খাসজমি ও প্রবাসীদের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এমন তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের সাম্প্রতিক ঘটনায়ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, জমির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

সূত্রের দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই জমি দখলের জন্য বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ক্যাডারকে সেখানে পাঠানো এবং হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হামলার পর ঘটনাটিকে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের চাঁদাবাজি হিসেবে প্রচারের কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।

শুধু ইসিবি চত্বর নয়, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শ্যামলী হাউজিং নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব এলাকায় একাধিক হাউজিং প্রকল্প, সরকারি খাসজমি ও প্রবাসীদের বিরোধপূর্ণ জমি দখলে বিভিন্ন অপরাধীচক্রের তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং ও ক্যাডারদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক নিয়েও জমি ও সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় অপরাধী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের একটি অংশ ওই সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারা এসব ঘটনায় সরাসরি জড়িত এবং কারা নেপথ্যে থেকে তাদের ব্যবহার করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের নাম আসছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরাধীদের ধরতে পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক হামলা ও সহিংসতার পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের অভিযান চালানোর বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে জমি ও সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে পুরোনো অপরাধী নেটওয়ার্কের নাম বারবার সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের অর্থের উৎস কী এবং মাঠপর্যায়ে কারা কাজ করছে, তা শনাক্ত করাই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের আরো খবর