
ব্যস্ততম ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটার যানজটে আটকা পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স। প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর অ্যাম্বুলেন্সেই আমিরুন্নেছা নামে রোগীর মৃত্যু হয়।শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দাউদকান্দি এলাকায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নিহতের স্বজন তারেক আল হাসান।নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় তারা।
অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর তীব্র যানজটে আটকা পড়ে ।
দীর্ঘ চার ঘণ্টা গাড়ি প্রায় স্থবির হয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সাড়ে রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি মারা যায়।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, যানজটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী মারা যাওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি এবং বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। শুক্রবার সকাল ৮টায় আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর এ যানজটের সৃষ্টি হয়।রাতে যানজটের অবস্থা আরো করুণ হয়ে দেখাদেয়। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল।দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কেউ কেউ খাবার ও পানির সংকটে পড়েছে।
ফেণী থেকে ঢাকা গামী স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রী সবুজুল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে যানজটে আটকা পড়েন তারা। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমিরাবাদে পৌঁছি আমরা।যাত্রীরা বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। এখানে সংস্কারকাজ হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বাসের মধ্যে অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরুর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট এখনো রয়েছে। যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কমাতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।