1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
রাশিয়ার ভয়ংকর ড্রোন ‘গেরান ৫’-এ দিশেহারা ইউক্রেন - আজকের কাগজ
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

রাশিয়ার ভয়ংকর ড্রোন ‘গেরান ৫’-এ দিশেহারা ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০৬ পিএম
শেয়ার করুন

ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের ‘গেরান-৫’ ড্রোন। প্রায় ছয় হাজার মিটার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এই জেটচালিত ড্রোনগুলো ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উচ্চ গতি, দীর্ঘ পাল্লা এবং বিপুল সংখ্যায় ব্যবহারের কারণে এগুলো ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের মধ্যকার পার্থক্যও অনেকটা অস্পষ্ট করে তুলছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ক্যাটরিনা বন্ডারের মতে, রাশিয়ার ‘গেরান-৫’ মূলত ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের রুশ সংস্করণ। রাশিয়ার আলাবুগা অঞ্চলে এগুলার ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে। নতুন জেটচালিত সংস্করণগুলোতে আগের পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।

বন্ডার জানান, সংস্করণভেদে এসব ড্রোনের পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৯৫০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চললেও গেরান-৪ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এবং গেরান-৫ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ধীরগতির, প্রোপেলারচালিত ড্রোন মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছিল। মেশিনগান, গান-ট্রাক এবং তুলনামূলক কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে আগে শাহেদ ড্রোনের বড় অংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু জেটচালিত গেরানের গতি ও উচ্চতার কারণে সেই ব্যবস্থা এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

বন্ডারের ভাষ্য, ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার। ফলে ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলা লক্ষ্যবস্তুকে ধাওয়া করে ধ্বংস করা কঠিন। পাশাপাশি নতুন গেরান ড্রোনে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যা আক্রমণের শেষ পর্যায়ে ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের ভিডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।

ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইউরি চেরেভাশেস্কো জানান, এসব ড্রোনের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো, এগুলো নিয়ন্ত্রিত। অপারেটরের নির্দেশ অনুযায়ী উড্ডয়নপথ ও উচ্চতা পরিবর্তন করা সম্ভব।

বিপুল সংখ্যায় হামলাই রাশিয়ার কৌশল

শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহারের কৌশলও রাশিয়ার হামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে রাশিয়া প্রায় ৪৫০টি জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করলেও আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৮৫০টিতে। এসব হামলার অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত ড্রোনের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল জেটচালিত।

তিনি আরও বলেন, বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। ৮০০টি ড্রোনের ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা গেলেও ৮০টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ডিকয়, বিভিন্ন দিক থেকে হামলা এবং উচ্চতা পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত ও দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রজার্স বলেন, গেরান-৫ ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের বির্বতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তুলনামূলক কম খরচে বেশি গতি ও দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতা থাকায় রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক হামলা চালাতে পারছে।

প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা খুঁজছে ইউক্রেন

জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে এসব ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেন কম খরচে গাইডেড মিসাইল, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং জেটচালিত ইনটারসেপ্টর ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোনগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত করার কৌশলও বিবেচনা করছে।

বন্ডারের মতে, কোনো একটি ব্যবস্থা নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জেটচালিত ইনটারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রয়োজন।

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের অর্থনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, গেরান ৫-এর মতো ড্রোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু এর গতি বা প্রযুক্তি নয় বরং তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা।

বন্ডার গেরান ৫-কে কার্যত একটি ‘স্বল্পমূল্যের ক্রুজ মিসাইল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষাকে ব্যস্ত ও দুর্বল করা যায়, আর ব্যয়বহুল ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর জন্য ব্যবহার করা যায়।

ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রর্জাসের মতে, ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষার বড় শিক্ষা হলো-শুধু উন্নত ইন্টারসেপ্টর তৈরি করলেই হবে না। বিপুল সংখ্যক ড্রোনকে কম খরচে প্রতিহত করার ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যুদ্ধের কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

এই বিভাগের আরো খবর