
টাকার লোভ দেখিয়ে ভুট্টাখেতে ডেকে নিয়ে ৬ বছর বছরের এক শিশুকে মুখ ও গলাটিপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাত্তার পাটোয়ারী (৫০) নামে এক ব্যক্তি। তাকে মাটিতে পুঁতে জ্যান্ত কবর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
সোমবার বিকালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব মিয়াজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাংগা ইউয়িনের মিয়াজিপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে ৩-৪ জন শিশু একসঙ্গে খেলছিল। এ সময় সাত্তার পাটোয়ারী নামের এক ব্যক্তি ৬ বছরের ওই শিশুকে ৫শ টাকার লোভ দেখিয়ে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে মুখ ও গলাটিপে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
ঘটনাটি অন্য শিশুরা দেখে ফেললে তারা দৌড়ে দিয়ে শিশুর স্বজনদের খবর দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে আটক করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে তার ভাইয়ের ঘরের ছাদে লুকিয়ে থাকে। লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ও শিশুর স্বজনরা বাড়িটি ঘিরে রাখেন।
এ সময় বাড়ির আশপাশের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে লোকজন চিৎকার করে অভিযুক্তকে মারপিটের জন্য বাহিরে অপেক্ষা করতে থাকেন। খবর পেয়ে বামনডাঙ্গা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ছাদে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সাত্তার পাটোয়ারীকে ছাদ থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় জনরোষ থেকে বাঁচাতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিশুর চাচা ও খেলার সাথীরা জানায়, শিশুটির গলাটিপে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তার গোঙানির শব্দ শুনে তারা বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন ও স্বজনদের কাছে খবর দিলে সে ধর্ষণ ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সাত্তার পাটোয়ারী বিত্তবান মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন যাবত গ্রামে এমন ধরনের বেশ কয়েকটি অপকর্ম করে গ্রাম্য সালিশে টাকা দিয়ে রক্ষা পায়। এজন্য সে একের পর এক অপকর্ম করেই চলছিল। গ্রামবাসী তার বিচার চায়। সাত্তার পাটোয়ারীকে মাটিতে পুঁতে জ্যান্ত কবর দেওয়ার দাবি জানান এলাকার লোকজন।
মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ও অভিযুক্ত সাত্তার পাটোয়ারীকে গাইবান্ধায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন মো. আমানুল্লাহ জানান, অভিযুক্ত সাত্তার পাটোয়ারীকে থানায় আনা হয়েছে। শিশুটিকেও থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর চাচা বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
Leave a Reply