
অবশেষে ৪২ বছর পর মিলল বহুল আলোচিত একটি মামলার রায়। সরকারি খাদ্য গুদামের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪১ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের এক মিল-চাতাল মালিককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হরিশ্বর কালুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ‘লতিফ চাল ও অটোকল’-এর মালিক। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন কিনা, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন সিরাজুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী তিনি ৮৬ দশমিক ৩২১ মেট্রিক টন ধান উত্তোলন করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৫৬ মেট্রিক টন চাল জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি মাত্র ১৫ মেট্রিক টন চাল জমা দেন। বাকি ৪০ দশমিক ৯৫২ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার ১২৫টি বস্তা আত্মসাৎ করেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে এলএসডি কর্তৃপক্ষ তার মিলে অভিযান চালিয়ে কোনো চালের মজুত খুঁজে পায়নি। এ ঘটনায় একই বছর কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাটি রংপুর ও রাজশাহীর বিভিন্ন আদালত ঘুরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। চার দশকেরও বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক বলেন, “সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করে কেউ শেষ পর্যন্ত পার পায় না। ৪২ বছর পর হলেও আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
রায়ের পর পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।