
প্রাণবন্ত ও উৎসাহপূর্ণ পরিবেশে রুয়েট ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যারাথনের দ্বিতীয় আসর। রুয়েটের অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব ‘অভিযাত্রিক’ আয়োজিত এ প্রতিযোগীতার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ক্যাম্পাসে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনচর্চার ধারা অব্যাহত রাখা।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে থেকে ভোর ৬টা ৪০মিনিটে প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। এর আগে অংশগ্রহণকারী দের কিটস প্রদান, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করে দেয়া হয়। রুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রতিযোগীরা তিনটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেন, যথাঃ ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন, এবং পুরুষ ও নারী বিভাগে ১০ কিলোমিটার ফান রান। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন। এতে মো. নাবিদ মোস্তফা জিসান ১ ঘণ্টা ২৪ মিনিটে দৌড় শেষ করে প্রথম স্থান অর্জন করেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মহিবুর রহমান রিন্টু (১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তাইমুর খান তুর্য (১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট)।
নারী বিভাগে ১০ কিলোমিটার ফান রানে জান্নাত আরা মুক্তি ১ ঘণ্টায় ফিনিশ লাইন অতিক্রম করে প্রথম হন। একই ক্যাটেগরি তে রানী টিকাদার ১ ঘণ্টা ১ মিনিটে দ্বিতীয় এবং আজিজা আয়েশা কাদেরী ১ ঘণ্টা ৯ মিনিটে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। অন্যদিকে পুরুষদের ১০ কিলোমিটার ফান রানে রহিমউদ্দিন প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২য় ও ৩য় অর্জন করেন যথাক্রমে মো. রায়হান হোসেন ও স্বাধীন হোসেন।
দিনটিকে আরও অনুপ্রেরণা মূলক করে তোলেন বিকেএসপি ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় মো. আলী কারিমী। ট্র্যাকে তার উপস্থিতি প্রতিযোগীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের অন্যান্য আকর্ষণ ছিলেন গ্রামীণফোন লিমিটেডের টেকনোলজি ম্যানেজার ও বুয়েট ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাহফুজ, পাবনা জোনাল অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার শাকিল জামান পলাশ, নেসকোর ডেপুটি ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. মেহেদী হাসান এবং নেসকো রাজশাহীর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ওয়ালিউল্লাহ, রাজশাহী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের অধ্যক্ষ ও ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এম. শাহরিয়ার সহ আরো অনেকে। তাদের উপস্থিতি প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করে।
পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও উত্তেজনাপূর্ণ এই ক্রীড়া আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ জীবনধারা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।