1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ক্যান্সারে মৃত্যু-জীবনের দ্বারপ্রান্তে ফাহিম - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তেই রক্ষা পেল ৩ হাজারেরও বেশি গাছ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন: ২বছরের জন্য বহিষ্কার পাঁচ রুয়েট শিক্ষার্থী অনলাইন জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাতে দাদিকে হত্যা: নাতিসহ গ্রেফতার ৩ দিনাজপুরের র‍্যাবের অভিযানে ৩২৭ কেজি বেলে পাথর জব্দ গ্রেপ্তার ২ ক্যান্সারে মৃত্যু-জীবনের দ্বারপ্রান্তে ফাহিম সারজিসের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফজলুরকে জামায়াত আমির উনি গুরুতর অপরাধ করেছেন ‘পতনের মুখে’ পড়ে হরমুজ খুলতে চায় ইরান : ট্রাম্প পুলিশে নতুন করে সাড়ে ১৪ হাজার পদ সৃষ্টি হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্যান্সারে মৃত্যু-জীবনের দ্বারপ্রান্তে ফাহিম

মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন

জীবন যেখানে শুরু হয়েছিল হাসি আর নির্ভেজাল শৈশবের আলোয়, সেখানেই হঠাৎ নেমে আসে অন্ধকার। পাঁচ বছরের ফাহিম আহমেদ আজ মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সারের সাথে এক নিঃশব্দ, অসহায় অথচ অবিচল লড়াইয়ে দিন কাটাচ্ছে। হাসপাতালের সাদা দেয়ালের ভেতর বন্দি তার শৈশব এখন শুধুই বাঁচার আকুতি।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক আষারু গ্রামের মো. মিজানুর রহমান ও ফেন্সি আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাহিম। প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার শরীরে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার। সেই মুহূর্তেই থেমে যায় পরিবারের স্বপ্নের স্বাভাবিক ছন্দ।

সন্তানকে বাঁচানোর তাগিদে বাবা মিজানুর রহমান নিজের ক্ষুদ্র জীবিকার অবলম্বন—মোবাইল মেরামতের দোকানসহ সবকিছু বিক্রি করে দেন। তবুও থেমে থাকেনি চিকিৎসার ব্যয়। বাধ্য হয়ে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নেন পাঁচ লাখ টাকা। এরপরও ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় বসতভিটা ব্যাংকে বন্ধক রেখে আরও ছয় লাখ টাকা জোগাড় করেন। আত্মীয়-স্বজন ও সহৃদয় মানুষের সহায়তায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে ফাহিমের চিকিৎসায়।

দীর্ঘ দশ মাসের চিকিৎসায় ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতির ছোঁয়া মিললেও ফাহিম এখনো সম্পূর্ণ সুস্থতার পথে পৌঁছায়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত আরও অন্তত দেড় বছর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু কেমোথেরাপি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ব্যয় এখন পরিবারের জন্য এক ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে প্রয়োজন আরও পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা, যা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

ফাহিমের দাদা আব্বাছ আলী বলেন, “একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে আমরা সবকিছু হারিয়েছি। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, শুধু অপেক্ষা আর দুঃখ।”

বাবা মিজানুর রহমানের কণ্ঠে ভেসে আসে ভাঙা স্বপ্নের ভার। তিনি বলেন, “আমার ছেলেটা একটু একটু করে ভালো হচ্ছে। ডাক্তাররা আশার কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই আশাটাই এখন ধূসর হয়ে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমরা হাত জোড় করে সাহায্য চাইছি।”

মা ফেন্সি আক্তারের চোখে জল থামে না। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আমাকে প্রতিদিন জিজ্ঞেস করে—মা, আমি কবে খেলতে যাব? আমি কীভাবে তাকে বোঝাই যে, তার শৈশবটা এখন হাসপাতালের বিছানায় আটকে আছে।”

নাতির সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন দাদি মমতা বেগমও।

অসুস্থ ফাহিম সবার কাছে শুধু একটি প্রার্থনা জানায়—সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে ফিরতে চায়, বন্ধুদের সাথে দৌড়াতে চায়, হারানো শৈশবটুকু ফিরে পেতে চায়।

ফাহিমের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আন্তরিক আবেদন জানিয়েছে। সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ: ০১৭৬৭২৮০০১১।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *