
নওগাঁর নিয়ামতপুরে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২২ এপ্রিল বুধবার দুপুর ২ টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তার কার্যালয়ের সন্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।এ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে ২০ এপ্রিল দিবাগত রাত ২ টার দিকে, নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি আক্তার (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং কন্যা সাদিয়া আক্তারকে (৩) জমি নিয়ে পুর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ সুপার দাবী করেন, এ হত্যাকান্ডে সরাসরি জরিত ছিল হত্যাকান্ডের স্বীকার হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সবুজ রানা, ভগ্নীপতি শহিদুল মন্ডল ও অপর ভাগ্নে শাহীন মন্ডল। ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিতে তাদের বাড়ির পাশের এক ঝুপড়ি ডোবা থেকে জবাই করা কাজে ব্যবহৃত একটি হাঁসুয়া (দা) উদ্ধারসহ গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো জানান এ কিলিং অপারেশনে গ্রেফতারকৃত ওই তিনজনসহ ৫-৬ জন অংশ নেয়। নমির উদ্দিন এর ৫ মেয়ে এবং ১ ছেলে। কিছু দিন আগে নমির তার ছেলে নিহত হাবিবুর রহমানের নামে ১৩ বিঘা এবং ৫ মেয়েকে সামান্য জমি লিখে দেয়। এ জমি লিখে দেয়া নিয়ে মেয়ে শিরিন ও তার স্বামী শহিদুল ইসলাম মন্ডল এবং নাতি সবুজ রানার মামা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়।এ বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদেরকে পরিকল্পিত ভাবে ওইরাতে তাদেরকে জবাই করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান।
এ সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ জেলা পুলিশের উদ্বরন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এঘটনায় পপি আক্তারের পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে নিয়ামতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply