
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। অভিযোগ গঠনের জবাবে কাঠগড়ায় থাকা আসামিরা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এর আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
এই মামলায় প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত।
এর আগে, ২ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মেনন ও কামরুল নানা উসকানি দেন। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।
শুনানিতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আবেদন করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। তবে অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। সেই আবেদন নাকচ হয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত তাদের হাজির করার নির্দেশ দেয়। মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা দু’জনে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
Leave a Reply