
সম্প্রতি সংস্কার করা টেকনাফ উপজেলার লেঙ্গুর বিল সড়কের স্টেশন অংশ অল্প সময়ের মধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ সড়ক ব্যবহারকারীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। বিশেষ করে চলতি বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে। অনেক স্থানে পানি জমে থাকায় গর্ত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে কয়েকগুণ।
জানা গেছে, ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটির সংস্কারকাজ তিনটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করে দায়সারাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, “প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু এখন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
একজন সিএনজি চালক বলেন, “গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাতে চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।”
এদিকে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। তাদের ভাষ্য, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেও সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার জরুরি।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) টেকনাফ কার্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বর্ষার কারণে কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অসম্পূর্ণ কাজ এবং তদারকির ঘাটতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা সড়ক নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।