1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
বদির ‘মেটিকুলাস ডিজাইনেই’ কাউন্সিলর একরাম হত্যা - আজকের কাগজ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অভিনয়ের বাইরে পশ্চিমবঙ্গে ভিন্ন মঞ্চে জয়া আহসান ১৫ বছরের কমবয়সী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা হজে যেতে পারবেন না আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী নওগাঁয় পানিতে ডুবে নবদম্পতির মৃত্যু, শয়ন ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার ‎কুবিতে ‘বন্ধু’র উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ব্লাডগ্রুপিং ও সদস্য সংগ্রহ ক্যাম্পেইন ‎ জোয়ারে শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধে ধস, আতঙ্কে ৪০ হাজার মানুষ দেড় মাসেও আবাসন বৃত্তি পাননি জবির ২৮০ শিক্ষার্থী রংপুর-কুড়িগ্রাম লাইনে শাটডাউন, বিদ্যুৎ বিঘ্নের শঙ্কা নোবিপ্রবিতে মোবাইল চার্জিং বুথ স্থাপন আর্থিক চাপে টিউশনি-খণ্ডকালীন কাজে ঝুঁকছেন ববি শিক্ষার্থীরা

বদির ‘মেটিকুলাস ডিজাইনেই’ কাউন্সিলর একরাম হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ ৮:৪৭ পিএম
শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিই টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলার ছক কষেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ওই ঘটনায় রোববার শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই মামলার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীসহ বিভিন্ন সারকামস্টেন্সিয়াল এভিডেন্স (পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য)—এগুলোর ভিত্তিতে সেখানে আমাদের সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আবদুর রহমান বদি—সেখানকার একজন কুখ্যাত…আমরা সংসদ সদস্য বলতে লজ্জাবোধ করছি। উনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার মেটিকুলাস ডিজাইনেই, এই বদির পরিকল্পনায় এই ঘটনাটা ঘটেছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কারণ এই একরাম ছিল তার প্রতিপক্ষ এবং এটাও আপনাদেরকে একটু অবহিত করে রাখি—এটা পরবর্তীতে হয়তো সাক্ষ্য-প্রমাণে আসবে, আপনারা দেখবেন যে একরামকে হত্যা করার পর তার সম্পত্তি কিন্তু এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেছিল এবং নেপথ্যের নায়ক ছিল সেই আবদুর রহমান বদি।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের তরফে রোববার সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এদিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের একজন টেকনাফের এক সময়ের এমপি আবদুর রহমান বদি।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান।

আসামিদের নাম উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, এদের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে তাদের সম্পৃক্ততা, তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের কাছে রিপোর্ট সাবমিট করে। সেই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকে তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছি এবং সেই ফরমাল চার্জের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মাননীয় ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন।

সেখানে বেশ কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেফতার আছে, তাদেরকে শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং যারা পলাতক আছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাটিও আগামী ২৫/৮/২৬ তারিখে আপনার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আপনারা জানেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার—তারা যে মতের মানুষই হোক না কেন, যখনই তাদের মতের বিরুদ্ধে আচরণ করত; তখনই তাদেরকে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে তাদেরকে টার্গেট করে অপহরণ করা হত, পরবর্তীতে তাদেরকে কাউকে আয়নাঘরে বন্দি করা হত অথবা কাউকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হত।

এরকমই একটি ঘটনা হচ্ছে আমাদের তৎকালীন কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলা। যেখানে একরামের মোবাইল ফোনটা সুইচ অন ছিল এবং সেই সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা এবং তার স্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের এই যে গুলির…মানে ফায়ারিংয়ের আওয়াজ, তার পরে একরামের যে কথোপকথন—এগুলা সব শুনতে পাচ্ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামি রুহুল আমিন ও আশেকুর রহমান তারা সরাসরি গুলি করেন। আর মিফতাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য র‍্যাব কর্মকর্তারা, যারা তখন ওই স্পটে উপস্থিত ছিল এবং তাদের তত্ত্বাবধানে, তাদের পরিকল্পনায় ওখানে হত্যাকাণ্ডটা সংঘটিত হয়।

শুধু তাই না, এই ঘটনার পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এবং শেখ হাসিনা এই ঘটনাটা যাতে আর বাড়াবাড়ি না হয়, এটা নিয়ে যাতে কোনরকমের তারা উচ্চবাচ্য না করে, সে কারণে একরামের স্ত্রীকে শেখ হাসিনা ডেকে নিয়ে এসে তাকে বলেছিল যে, এটা নিয়ে যাতে আর বাড়াবাড়ি না করে, তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা যান টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক। পরে র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ আখ্যায়িত করে বলা হয়েছিল, একরামের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

একরামুলের ভাই এহসানুল হক বাহাদুর তখন বলেছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে সাধারণ পোশাকের কিছু লোক শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জানায়, জমি বিক্রির ব্যাপারে একরামুলের সঙ্গে কথা বলতে চায় তারা। পরে গভীর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুলের নিহত হওয়ার খবর পান।

পরে একরামের মৃত্যুর সময়কার একটি অডিও প্রকাশ পেলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, র‌্যাব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

একরামকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এই বিভাগের আরো খবর