
রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার পূরবী রোডে অবস্তিত আনন্দ নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলটিতে চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চলছে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের চারপাশে ময়লার স্তূপ, শ্রেণিকক্ষে ধুলোবালি, নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। এমন পরিবেশে প্রতিদিন ক্লাস করছে কোমলমতি অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আনন্দময় পরিবেস। সেখানে শিশুরা শিখবে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। কিন্তু আনন্দ নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চলছে পাঠদান এ যেন দেখার কেউ নেই সবই উল্টো চিত্র। ক্লাসরুমের পাশেই জমে থাকা নোংরা পানি, দুর্গন্ধ, টয়লেটের বেহাল দশা। এই পরিবেশে শিশুরা কী শিখছে? তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, পরা লেখায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।
অভিভাবকদের দাবি, বাইরে থেকে ভবনটি নতুন মনে হলেও শ্রেণিকক্ষের ভেতর, টয়লেট এবং আশপাশের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের মধ্যে কোমলমতি শিশুদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে শিশুরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সন্তানদের মানুষ করার জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পরিবেশই যদি অসুস্থ হয়, তাহলে বাচ্চারা সুস্থ মানুষ হবে কীভাবে? শিক্ষার নামে এটা তো শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা।” অভিভাবক বলেছেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হওয়ার কথা। এখানে শিশুরা স্বাস্থ্যবিধি শিখবে। কিন্তু এখানে উল্টো চিত্র, শিক্ষদের বাচ্চাদের কেয়ার করবে ঠিক মোত পরবে তাও হচ্ছে না যা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে।”
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, নোংরা পরিবেশে শিশুদের মধ্যে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। এছাড়া মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ শিশুর চরিত্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। নোংরা পরিবেশ থেকে তারা পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা পাবে না।
এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এক শিক্ষিকা বলেন, পানির মটর নষ্ট হওয়াতে এমনটা হয়েছে। এ কারণে কয়েকদিন স্কুল বন্ধ ছিল এখন পানির মটর ঠিক করা হয়েছে ঝাড়ুদার ও বুয়া কাজ করেছে সামনে আর এরকম হবে না।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই স্কুলটির পরিবেশ উন্নত করা হোক। শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যেন সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিশুরা যেন আনন্দ নিয়ে পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা পায়, রোগ নয়। এমন ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট থানা শিক্ষা অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।