
সিরিজের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় মেনে নেওয়ার পর প্রোটিয়ারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা ছিল বিস্ময়কর। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তারা শুধু সিরিজই জেতেনি, বরং বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের সিংহাসনও পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বসেরার মুকুটও ফিরে পেল প্রোটিয়ারা।
কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়েছে। ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য ছিল। তবে সফরকারীরা দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায়। এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্পিনার সাইমন হারমার। তিনি ম্যাচে ১৬ রান দিয়ে ৬টিসহ মোট ১০ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের নায়ক হয়েছেন। অন্যদিকে কাগিসো রাবাদা ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মাত্র ১৬ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। রাবাদা এই ম্যাচে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও একসময় চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা।
২০১৬ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরেছে। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সারির তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো এই জয়ের সুবাদে ২০১৬ সালের পর প্রথমবার আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গা ফিরে পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সিরিজের শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না। প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রানে অলআউট হওয়ার পর তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১০০ রানের লিড দিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের জোড়া শতক দলকে লড়াইয়ে ফেরায়। তাঁদের দৃঢ়তায় দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার সামনে সম্মানজনক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়। শেষ দিনে বোলারদের তোপে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়লে জয় নিশ্চিত হয় প্রোটিয়াদের।