1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
এসএসসিতে কুড়িগ্রামে ৪ স্কুলে শূন্য পাস - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

এসএসসিতে কুড়িগ্রামে ৪ স্কুলে শূন্য পাস

মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন

কেউ ১২ জন, কেউ মাত্র চারজন। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল—একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলার চার বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে।

এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবারই প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রথমবার পরীক্ষায় বসেই দুই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বাল্যবিয়ে, শ্রমে যুক্ত হয়ে পড়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়াকে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তবে চার বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, একাডেমিক প্রস্তুতি ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। বিপরীতে জেলার চারটি বিদ্যালয়ের ফলাফল গিয়ে ঠেকেছে শূন্যে।

রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র পর্যায় পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। ২০১২ সালে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠদান পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি।

এবারই প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়টি থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আগামী এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণির প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের বাল্যবিয়ে এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। পাশাপাশি উপজেলা শহর থেকে বিদ্যালয়টি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভালো শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। ফলে বিদ্যালয়ে ভালো শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজারহাটের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১২৫ জন। শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বাকি চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

তিনি বলেন, নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৬ জন। এবার বিদ্যালয়টি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও এবার কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফল খারাপ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বাল্যবিয়ে, ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তবে কোনো বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের উপস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি কতটা কার্যকর ছিল—এসব বিষয়ও সামনে এসেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন দেখার বিষয়, তদন্তে শুধু ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করা হয়, নাকি শিক্ষক সংকট ও পাঠদানের ঘাটতি দূর করে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়।

কারণ, জেলার ১৮ হাজার ৮৯৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে যেখানে ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, সেখানে চারটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করার ঘটনা নিছক ফলাফল নয়—এটি ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনার জন্যও বড় ধরনের সতর্কবার্তা।

এই বিভাগের আরো খবর