1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর - আজকের কাগজ
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চুক্তি না হলে সামরিক বাহিনী হামলার জন্য ‘পুরোপুরি’ প্রস্তুত : ট্রাম্প দরপত্র জমা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির মারামারি কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)’র অভিযানে ৭২ লক্ষ টাকা মুল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক মানবিক বিবেচনায় যুব মহিলা লীগ নেত্রীর জামিন এসএসসির প্রথম দিনে বহিষ্কার ৬ শিক্ষার্থী, ১ পরিদর্শক ট্রাইব্যুনালে ঘুষকাণ্ডে প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৬ কর্মকর্তাকে বদলি ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রভাব ৮০ বিলিয়ন ডলার’ পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিতু জ্বালানি সংকটে অটোরিকশা ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে : ডা. জাহেদ উর রহমান

কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৫:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না। পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।

তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।

খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আলবার্ট আইন্সটাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি।

সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‌‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’।

তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’-এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সব ধরনের সুবিধা প্রদান করতে সার্বিক উদ্যোগ নিয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারাম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরও অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।

দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

এর আগে, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রিড়াবিদের মোবাইলে এক লক্ষ টাকা পৌঁছে যায়। এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

সূত্র : বাসস

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *