1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
চৌদ্দগ্রামে পিআইও'র বিরুদ্ধে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুট,অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ - আজকের কাগজ
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নিরাপত্তা উদ্বেগে পাকিস্তান যাচ্ছেন না জেডি ভ্যান্স: ট্রাম্প বিগত সময়ের অপরাধ অনুসন্ধানে বিচারিক কমিশন গঠন করা হবে: জবি উপাচার্য কুড়িগ্রামে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ চৌদ্দগ্রামে পিআইও’র বিরুদ্ধে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুট,অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কুড়িগ্রামে বাইক চোরচক্র ধরা, ৯ গ্রেপ্তার চার দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ, জনসাধারণের ভোগান্তি রাণীশংকৈলে শাটারিং খুলতে গিয়ে সেফটি ট্যাংকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মেরিন ড্রাইভে ভাড়ায় চালিত গাড়িতে আগুন: বেঁচে গেল যাত্রীরা খাল খননের মাধ্যমে কৃষি জমি তিন ফসলিতে রূপান্তর করা হবে: আবুল কালাম এমপি খাল খননে যশোর ও সিলেটে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চৌদ্দগ্রামে পিআইও’র বিরুদ্ধে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুট,অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:২৭ পিএম
শেয়ার করুন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে। উন্নয়ন বরাদ্দে কমিশন আদায়, নিজস্ব লোক দিয় কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা,পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের নামে উৎকোচ আদায়,টিআর,কাবিখা,কাবিটা,কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার সকল কাজে সহযোগিতা করছে উর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা।চৌদ্দগ্রামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ থেকে বরাদ্দ প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৬৬টি। তার মধ্যে টিআর বাবদ ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭৪ টাকা ও কাবিটা বাবদ ২ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৬৬১ টাকা, খাদ্যশস্য গম বা চাল প্রথম পর্যায়ে ২২০ টন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২৬ টন। যার মূল্য ১৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। তার মধ্যে উপজেলা কমিটির ২০ শতাংশ রিজার্ভে থাকা পাঁচটি প্রকল্প বাবদ ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫ টাকার নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লুট করা হয়েছে বিশাল অংক। তাছাড়া টিআর কাবিখা-কাবিটার বেশির ভাগ প্রকল্প থেকে তিনি কমিশন আদায় করছে। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পিআইও মো: আবুল কালাম আজাদ নিজেকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর দাবি করে দেদারছে অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের প্রশ্রয় থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে উল্টো নাজেহাল হচ্ছে ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় এসব বিষয় নিয়ে কেউ অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেনা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পের ক্রমিক নং-৫ অনুযায়ী উপজেলা সদরে আনসার ক্যাম্পের পেছনের পুকুর সংস্কার ও পাড় রক্ষাকরণ উন্নয়ন বাবদ ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেখানে নামমাত্র ২০-৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রকল্প নং-৬ বিয়াম স্কুলের সম্মুখভাগে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণ, মাটি ভরাট ও উন্নয়ন বাবদ ৬ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার নালা নির্মাণ করা হলেও নতুন করে কোনো মাটি ভরাট করা হয়নি। প্রকল্প নং-৭ মডেল মসজিদের পেছনে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা নির্মাণ বাবদ ২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১ লাখ টাকার কাজও হয়নি। প্রকল্প নং-৮৯ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সেবাকেন্দ্রের নির্মাণ ও সম্মুখভাগে বৃক্ষরোপণ বাবদ ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুরো উপজেলা চত্বর মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকায় বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। প্রকল্প নং-৯০ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৫ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটি ঘুরে দেখা গেছে শখের কিছু ফুলের টপ, কয়েকটি ল্যাপটপ ও দুটি কক্ষের বাইরে রং করা হয়েছে। যেখানে সবমিলিয়ে ২ লাখ টাকারও কম ব্যয় হওয়ার কথা। সূত্র জানায়, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহারের জন্য ৯৫টি সরকারি স্ট্যাম্পের, যার মূল্য ৯৫ গুণন ৩১৫ মোট ২৯ হাজার ৯২৫ টাকা, অথচ সেসব স্ট্যাম্প পিআইও অফিস থেকে বিক্রি করা হয়েছে ৯৫ গুপন ৬০০ মোট ৫৭ হাজার টাকা। তিনি নিজে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন না করে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনকে দিয়ে পরিদর্শন করিয়ে থাকেন। তার সঙ্গে মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত জাহিদ হাসান, অফিস সহায়ক মো. আলাউদ্দিন সহযোগিতা করে থাকে। তারা পিআইও আবুল কালাম আজাদের টার্গেট পূরণ করতে না পারলে সেবাগ্রহীতাদের কথা বলার সুযোগ থাকে না। অনেক সময় সাংবাদিকরাও তার কাছে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে পিআইও আবুল কালাম আজাদ এসবকে কখনোই তোয়াক্কা করেন না। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রশ্রয়ে তিনি সবকিছুতেই পার পেয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি পিআইও অফিসকে বহিরাগত মুক্ত করার জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু পিআইও আবুল কালাম আজাদ সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বলেছিলেন আল-আমিন এ অফিসেই থাকবে, তাকে আমি কখনোই সরাব না, পারলে কেউ ঠেকাতে আসুক। এখনো বহিরাগত আল-আমিন বহাল তবিয়তে রয়েছে।
পিআইওর এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে জেলা প্রশাসক এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগে একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে খোকন বলেন-পিআইও আবুল কালাম আজাদের এসব অনিয়ম অভিযোগ সত্য এবং আমরা অবগত। বিয়াম স্কুলের পাশের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, পিআইও নিজস্ব লোক দিয়ে প্রকল্পের কাজ করিয়েছে। তিনি নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করেছে। পিআইও খুব প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাভ হচ্ছেনা।
স্থানীয় সাংবাদিক কাজী সেলিম বলেন, পিআইও প্রতিটি প্রকল্প থেকে কমিশন আদায় করে থাকে। উপসহকারী প্রকৌশলীর মাধ্যমে উৎকোচ গ্রহণ করে। তথ্য চাইলে তথ্য না দিয়ে উলটো হয়রানি করে। এ ছাড়াও সাংবাদিকরা তথ্য চাইলে তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে। পিআইও’র এসকল কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার উপজেলায় সব প্রকল্পে কাজের স্বচ্ছতা রয়েছে। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। এখানে কোনো কমিশন বাণিজ্য অথবা অন্য কোনো অনিয়ম নেই। সুবিধা না পেয়ে অনেকে উল্টা পাল্টা অভিযোগ করছে।জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান সাংবাদিকদেরকে বলেন, এসব অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। প্রকল্পে অনিয়ম হলে অথবা অন্য কোনো দুর্নীতির বিষয় পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *