1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
খেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করবে ইসি - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী ডিএনসিসির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন খেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করবে ইসি শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করে মেসি বললেন ‘ফাইনাল হবে সমানে সমান’ কুড়িগ্রামে নিজ ঘরে আগুন দিয়ে অস্ত্র হাতে যুবকের তাণ্ডব বেরোবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ পালিত ববি হলে শিবিরকর্মীর ওপর মব সৃষ্টি, ছাত্রদল সভাপতিসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু

খেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করবে ইসি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৯:১৬ পিএম
শেয়ার করুন

আসন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে ঋণখেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করার বিধান আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন বিধিমালায় বিষয়টি আনা হবে।

এছাড়া আইন সংশোধনের জন্যও সরকারকে প্রস্তাব দিচ্ছে সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করে থাকে কমিশন।

আইন করে দেয় সরকার। আর নির্বাচন বিধিমালা ও নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করে ইসি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বর্তমানে সিটি করপোরেশন আইন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালায় কেবল ঋণখেলাপির জামিনদারকে অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন ও নির্বাচন বিধিমালায় বিষয়টি নেই।
তাই অন্যগুলোতে একই রকম বিধি-বিধান আনার কথা ভাবা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, অনেকেই নিজ নামে প্রতিষ্ঠান গড়েন না। অনেকেই ঋণও অন্যের নামে নেন। সংশ্লিষ্টরা প্রার্থী হলেও তাদের খেলাপি হিসেবে ধরা যায় না। তাই জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলে ভালো হতো। কেননা, আইন নির্বাচন কমিশন করতে পারে না। কমিশন কেবল সরকারকে চিঠি লিখতে পারে। তাই নির্বাচন বিধিমালায় বিষয়টি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেননা, বিধিমালা প্রণয়ন সংশোধনের এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে। এছাড়া আইন সংশোধনের প্রস্তাবও দেওয়া হবে।

সিটি করপোরেশন
স্থানীয় এই সরকারের আইনের ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন যদি “…(ঝ) বসবাসের নিমিত্ত গৃহ-নির্মাণের জন্য কোন ব্যাংক হইতে গৃহীত ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে তদকর্তৃক কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা উহার কোন কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হইয়া থাকেন; (ঞ) এমন কোন কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন, যাহা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা উহার কোন কিস্তি পরিশোধে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখে খেলাপি হইয়াছে।”

আইনে এই ধারা দুটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “ঋণখেলাপি অর্থে ঋণ গ্রহীতা ছাড়াও বন্ধকদাতা বা জামিনদার, যিনি বা যাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা ফার্ম Banker’s Book of Account এ ঋণ খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত আছে তাহাদেরকেও বোঝা হবে।”

জেলা পরিষদ
জেলা পরিষদ আইনে বলা হয়েছে, কোনো বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত কোনে ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।

উপজেলা পরিষদ
এই সরকার প্রতিষ্ঠান আইনের ৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন যদি “…(ঞ) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী রাখেন; তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত নিজস্ব বসবাসের নিমিত্ত গৃহ-নির্মাণ অথবা ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ ইহার আওতাভুক্ত হইবে না; (ট) এমন কোন কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন যাহার কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা উহার কোন কিস্তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে পরিশোধে খেলাপি হইয়াছেন।”

আইনে দফা দুটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “খোলাপি অর্থ ঋণ গ্রহীতা ছাড়াও যিনি বা যাহার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা ফার্স Banker ‘s Book of Account এ ঋণ খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত আছে তাহাদেরকেও বুঝাইবে।”

পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনেও একই রকম কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সিটি করপোরেশনে জামিনদারকেও আইনের আওতায় আনা হলেও অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। কমিশন বর্তমানে সেই বিষয়টিই বিধিমালায় আনতে চাচ্ছে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঋণখেলাপি ইনক্লুডস গ্যারান্টার এই কথাটা বিধিতে যোগ দিতে চাই। একেকটাতে একের রকম আছে। আইন করবে সরকার। কাজেই সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে আমরা এটি যোগ করার চিন্তা করছি।

তিনি বলেন, ঋণখেলাপির সজ্ঞায় আমরা জামিনদারের বিষয়টি সব জায়গায় আনতে চাই। এজন্য সংশোধনের কাজ চলছে। সরকারের কাছে পাঠাব। কারণ, এটা এক জায়গায় আছে, আরেক জায়গায় নাই। কাজেই সবগুলোতে একই রকম থাকা দরকার।

এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থিতা বাতিল হবে, জামানতের বিষয়টাও আমরা বাড়াতে চাই। এক্ষেত্রে উপজেলা, পৌরসভায় এক লাখ টাকা, ইউপিতে ২৫ হাজার টাকা, সিটিতে পৌরসভায় এক লাখ হলে সিটিতে দেড় লাখ করতে হয়। নারীদের প্রার্থীদের জন্য আমরা না বাড়ানোর চিন্তা করছি। কারণ এমনিতেই নারী প্রার্থী কম। জামানত বাড়লে আরও কমে যাবে। আমরা এভাবে চিন্তা করছি, যোগ করেন এই নির্বাচন কমিশনার।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগের সংলাপের বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা হলেও আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এখন পার্লামেন্ট আছে। দলগুলো ওখানে বিতর্ক করছে। কাজেই আমাদের সংলাপ করার কিছু নেই। আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাব। তারা সেখানেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা আগামী মঙ্গলবার বৈঠক করে পাঠিয়ে দেব।

সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বিধিমালা সংশোধনের জন্য খসড়ার ওপর মতামত দিতে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, “এগুলো আমরা এনালাইসিস করেছি আচরণ বিধির জন্য। সেগুলো দিছে দুই-একটা ছোট বিষয় ইনক্লুড করা হয়েছে। তবে এসব ফিডব্যাকের ভিত্তিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না।”

দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। এর মধ্যে চলতি বছরে নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ভোট উপযোগী হবে।

এছাড়া দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী হয়েছে। আইনি জটিলতায় ১০টি পৌরসভা নির্বাচন উপযোগী নয়।

এদিকে নতুন ৫টিসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। নতুন করে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। বর্তমানে সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। ইউনিয়ন পরিষদ বাদে অধিকাংশ স্থানীয় সরকার চলছে প্রশাসক দিয়ে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব নির্বাচন নিয়ে বলেন, আমরা অক্টোবরের প্রথম সময়টাকে ধরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুতের জন্যও মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর