
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। টানা একদিন চিকিৎসা দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত প্রাণীটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বন বিভাগ বলছে, ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় হাতিটির মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী মা হাতিটি। নিচে নামার সময় গাছ ও পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পেছনের দুটি পা ভেঙে যায় এবং পেটের একটি অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
খবর পেয়ে বন বিভাগ, টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসা শুরু করেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাতিটির অবস্থার উন্নতি হয়নি।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, হাতিটির মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ায় এবং পেছনের অংশ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাতিটিকে পাহাড়েই মাটিচাপা দেওয়া হবে।
টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাথুরে হওয়ায় আহত হাতিটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ার সময় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছিল প্রাণীটি। গত এক দশকে পাহাড়ধস বা পা পিছলে কয়েকটি হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এবারের দুর্ঘটনার মতো এত গুরুতর আঘাতের ঘটনা দেখা যায়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং হাতির স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “বিকট শব্দ শুনে পাহাড়ের নিচে গিয়ে দেখি হাতিটি পড়ে ছটফট করছে। বন বিভাগের লোকজন দ্রুত এসে চিকিৎসা শুরু করেন। সবাই চেয়েছিল হাতিটি বেঁচে যাক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটিকে প্রায়ই নেটং পাহাড় ও পাশের দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় বিচরণ করতে দেখা যেত। কর্মকর্তাদের ধারণা, পাহাড়ের চূড়ায় খাদ্য সংগ্রহের সময় ভারী বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটি ধসে পড়ায় হাতিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় টানা বর্ষায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে শুধু মানুষ নয়, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। তাই হাতির বিচরণপথ ও পাহাড়ি বনাঞ্চল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।