
নোয়াখালী সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির তদন্ত শুরু। নোয়াখালী সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ৪র্থ শ্রেণীর জনবল সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করার অভিযোগে বিচারপ্রার্থী হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক ঠিকাদার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ঢাকা) বরাবর এই অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়। মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন অভিযোগকারী ঠিকাদার কামরুজ্জামান। এর আগে, ১১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বরাবর এই অভিযোগ দাখিল করেন তিনি।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিস থেকে ‘সরকার আউটসোর্সিং এন্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডে’র জন্য সিডিউল ক্রয় করে তা যথারীতি জমা দেয়া হয়। ১৯ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত যাচাই-বাছাই সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠানটি ১ থেকে ৫ এর মধ্যে অবস্থান করে। কিন্তু নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসিয়ালি যোগসাজসে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ‘বিএসএস সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানকে গত ৮ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ প্রদান করে দেয়। বিষয়টি তদন্তের আবেদন জানিয়ে অভিযোগে এ বিষয়ে প্রচুর পরিমাণ অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় অভিযোগকারী ব্যক্তি কামরুজ্জামানের সাথে। তিনি বলেন, আমাদের সকল কাগজপত্র ও শর্তাবলী সঠিক থাকার পরেও প্রথম থেকেই আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তারপরেও ১৭ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই শেষে বাছাইকৃত ৫ এর মধ্যে অবস্থান করে। এবং এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে লটারি হওয়ার কথা। কিন্তু সিভিল সার্জন এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম লটারির জন্য ঘোষণা না করে তিনি তার নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়ে দেন। আমাকে অজুহাত দেখান আমার লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। অথচ আমার লাইসেন্সের মেয়াদ আছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। সিভিল সার্জনের এমন বক্তব্যে আমি উনার কাছে জানতে চাই যে কি কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করা হয়েছে তা লিখিত দিন কিন্তু তিনি তা লিখিত দিতে অস্বীকৃতি জানান। সেই কথোপকথনের ভিডিও রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে। অবশেষে সিভিল সার্জন আমার লাইসেন্সের মেয়াদ নাই দেখিয়ে মৌখিক অর্ডারে আমাকে অন্যায় ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বাতিল করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি বলেন, অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা। আমরা নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। যারা অভিযোগ করেছে তারা তাদের লাইসেন্স কপিতে টেম্পারিং করেছে যে কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান বাদ পড়েছে। আমরা আমাদের জায়গায় ঠিক আছি।
এদিকে, একই অভিযোগের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব, জেলা প্রশাসক নোয়াখালী, সিভিল সার্জন নোয়াখালী, নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশন ও নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়।