1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, আসছে বড় বিনিয়োগ - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, আসছে বড় বিনিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ ৯:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৩-২৬ জুন চীন সফরে যাচ্ছেন। চীন সফর ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনাও চলছে।

এই সফর ঘিরে দুই পক্ষেরই প্রত্যাশা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে দেশটির আরও বিনিয়োগ আসতে পারে।
একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পের জটও খুলতে পারে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তবে এবারের সফরের গুরুত্ব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
বেইজিং সফরে ঢাকার প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রত্যাশা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, শিল্প কারখানা স্থানান্তর, অবকাঠামো অর্থায়ন, তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি, সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি।

বিএনপি-চীন সম্পর্কে গতি
ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির সঙ্গে চীনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীন সফর করে। সফরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সে সময় উভয় পক্ষই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। চীন সফর শেষে মির্জা ফখরুল জানিয়েছিলেন, বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হয়েছে। একই সফরে সিপিসি নেতৃত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানায়। এই সফরের মধ্যে দিয়ে বিএনপির সঙ্গে চীনের সম্পর্কে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেইজিংয়ে লক্ষ্য কী?
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চীন ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। সরকার পরিবর্তনের পর বেইজিং চাইছে বিএনপি সরকারের সঙ্গেও একই মাত্রার রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে।

তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প স্থানান্তর, বন্দর উন্নয়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো সফরের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে ভারত-চীন প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের গভীরতা চীনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চীন তার বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ-জিডিআই, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ জিসিআই এবং অন্যান্য বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে আগ্রহী। সফরে এ বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

বাণিজ্যে ভারসাম্য চায় ঢাকা
চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানি উৎস এবং অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। তবে ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেইজিং ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু রপ্তানি বহুমুখীকরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ সেই সুবিধার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না। বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কে বর্তমানে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪ সালে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল প্রায় ২২.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চীনের আমদানি ছিল মাত্র ১.১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হলেও এর বেশিরভাগই চীনের পক্ষে।

বড় চমক কী হতে পারে?
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে তিস্তা প্রকল্প, শিল্প বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত সমঝোতা থাকতে পারে। তবে এখনো এসব চূড়ান্ত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশে বৃহৎ আকারের নতুন চীনা বিনিয়োগ প্যাকেজ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন প্রকল্প ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়; এটি অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তিস্তা থেকে বিনিয়োগ—কোন খাতে সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে আসে বেইজিং সফর।

তিস্তা প্রকল্পের দুয়ার খুলতে পারে
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। নদীটির নাব্যতা সংকট, পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বৃহৎ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

চীন কয়েক বছর ধরেই তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি ধীর হয়ে গেলেও এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিষয়টি নতুন গতি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এমনকি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিনিয়োগ বাড়ানোর বড় সুযোগ
বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের গতি বাড়াতে বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অন্যতম লক্ষ্য হবে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও সক্রিয় করা। বিশেষত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৈদ্যুতিক যানবাহন, শিল্প টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পবন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব আসতে পারে।

চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কারখানা স্থানান্তরের বিষয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশকে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম চীন সফর। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন মাইলফলক হতে পারে।

তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে যদি ইতিবাচক অগ্রগতি হয়, তাহলে সেটি হবে সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তার মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্বল্পসুদে অর্থায়নের প্রয়োজন অনুভব করছে। এ ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে নতুন ঋণ, ক্রেডিট লাইন বা বিনিয়োগ সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সূত্র:বাংলানিউজ

এই বিভাগের আরো খবর