1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
বজ্রপাতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

বজ্রপাতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন

বজ্রপাতে দেশের চার জেলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানি ঘটে। ৯ জনের মৃত্যু ছাড়াও এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রাঘাতের ঘটনায় এক জেলে ও দুই কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নদ এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারা ফেরিঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে যান আবদুল মোতালিব নামের এক জেলে। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল মোতালিবের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় গ্রামে।

অন্যদিকে, দুপুরে উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে নিজবাড়ির সামনের হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক বজ্রাঘাতের শিকার হন। বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হয়ে তিনি তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

বিকেলে উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে মো. শুভ মণ্ডল নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার আকনাদিঘির চর এলাকায় বলে জানা গেছে।খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানান, পৃথক তিনটি স্থানে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সবগুলো মৃত্যুই বজ্রাঘাতের কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং অন্য কোনও অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের সদর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৩৮) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪০) আরেকজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে অন্যান্য কৃষকদের সাথে ধান কাটতে যান জমির উদ্দিন এসময় আকস্মিক বজ্রপাতে জমির উদ্দিন আহত হলে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক থাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ ছাড়া একই সময় গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসন বাড়ি থেকে বের হয়ে বৈটাখালি নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান জানান আজ দুপুরে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজন এসেছেন তাদের সবাই মৃত। তাদের একজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও ৩ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে বানিয়াচং ও নবীগঞ্জে পৃথক বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রাঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) ও বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণ পাড়ার আব্দুল সালাম (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিকেলে মকসুদ আলী গড়দার হাওরে নিজ জমিতে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে। একই সময়ে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকার হাওরে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আব্দুল সালামের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তিনি একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে।

এছাড়া বজ্রাঘাতে একই উপজেলার গড়পাড় গ্রামের সামরুজ মিয়া (৫০) নামে আরেকজন কৃষক আহত হয়েছেন। বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ছিলেন আবুবকর ছিদ্দিক মিঞার নাতি এবং প্রয়াত আফছার মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন এবং পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, আরাফাত একটি চায়ের দোকান চালাতেন। আজ দুপুরে তিনি বাদাম শুকাতে দিয়েছিলেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে বাদাম আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রাত ৯টায় দাইন মাঝি বাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের সাত জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে ১৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পঞ্চগড়, জামালপুর, নাটোর ও ঠাকুরগাঁওয়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ছয়টি জেলাতেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *