
নগরীতে বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের (বড় সাজ্জাদ) বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তদন্তে জানা গেছে, কোরআন হাতে শপথ করিয়ে নতুন সদস্যদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো এবং সাজ্জাদের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে সদস্যপদ নিশ্চিত করা হতো।
পুলিশ আরো জানায়, রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—নতুন সদস্যরা কোরআন হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের শপথ করছেন। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, কোরআনের ওপর হাত রেখে বললাম, আমার জীবন আজ থেকে সাজ্জাদ ভাইয়ের হাতে… মরলেও সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না।
এই ভিডিও পলাতক থাকা সাজ্জাদের কাছে পাঠিয়ে সদস্যপদ ‘অনুমোদন’ নিতেন রিক্রুটরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় মুখোশধারী চার ব্যক্তি গুলিবর্ষণ করে। ব্যবসায়ী দাবি করেন—দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না পাওয়ায় জানুয়ারিতেও বাসায় গুলি করা হয়। ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় হুমকি দেয়া হয়—“ওয়েট অ্যান্ড সি”।
সিসিটিভি চিত্রে দেখা যায়, গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত ছিল পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া রিমনের তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়।
পরবর্তী অভিযানে মনিরের দেখানো মতে উদ্ধার হয় ডবলমুরিং থানায় লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ এম এম পিস্তল।
সায়েমের তথ্য অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি। এই অস্ত্র ও গুলি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে কিনেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে বলে জানায়। আসামি মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে সর্বমোট ১০ টি মামলা রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্রগুলোই চন্দনপুরায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ব্যালিস্টিক পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক জানান, বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেও হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা আছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রত্যেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। আসামি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রকাশ রিমন প্রকাশ ইমন সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিল। সে পর্দার অন্তরালে থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রুপ ও অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণসহ সকল চাঁদাবাজি এবং খুনের মুখ্য পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী। পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply