1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
সাদুল্লাপুরে পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকায় রমরমা জুয়ার আসর চলার অভিযোগ - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান গ্রাহকদের: বাজারে আসার পরপরই আইফোন ডুও ফোনের পর্দায় ফাটল পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা, গোলাগুলিতে নিহত এক অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণব জাপান ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্ধুসভার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ফাহিম একাদশের জয় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি কি ক্ষমতা হারাচ্ছে? উত্তেজনায় ইসরায়েলি নির্বাচন ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে ৪ চুক্তি সই হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিল সৌদি আরব

সাদুল্লাপুরে পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকায় রমরমা জুয়ার আসর চলার অভিযোগ

সাদুল্লাপুর(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৩৭ পিএম
শেয়ার করুন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খরকার দিঘি, জামুডাঙ্গার ঘাঘট নদীর চরসহ বেশ কয়েকটি স্পটে রাত হলেই নির্বিঘ্নে ছয়গুটির রমরমা জুয়ার আসর চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের রহস্যজনক মৌন ভুমিকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার পাশাপাশি প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের আসরও চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ পেশাদার জুয়ারি চক্রের আয়োজনে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। এতে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে পড়ছেন।অনেকেই নিঃস্ব হয়ে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।ফলে এ এলাকায় আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ। রাতভর জুয়াড়িদের আনাগোনা, মাদকসেবীদের উৎপাত ও মোটরসাইকেলের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেননি। তাদের দাবি, বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই জুয়ার আসর অবাধে চালানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ফরিদপুর ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খোদাবক্স গ্রামের খরকার দিঘির দক্ষিণ পাড় এবং নলডাঙ্গা সড়কের ঘাঘট ব্রিজসংলগ্ন জামুডাঙ্গা বাঁধের পূর্ব পাশে নদীর চরে বাঁশ ও ত্রিপলের সামিয়ানা টাঙিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া চলে। এছাড়া মিরপুর, মহেশপুর, ভাজাকালাই নদীসংলগ্ন এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

সতাদের ভাষ্যমতে সন্ধ্যার ঘনিয়ে আসতে না আসতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়ারুচক্র মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন যোগে আসতে থাকেন। রাত যত গভীর হয় ততই যেন জুয়ার আসর রমরমা হয় ওঠে।জুয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলে মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন। এরূপ অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।ফলে এখন আর কেউ কিছু না বলায় চলছে এহেন অসামাজিক কার্যকলাপ।

অভিযোগ রয়েছে, খোদাবক্স গ্রামের মজিদুল ইসলাম জুয়ার এ আসরের প্রধান পৃষ্টপোষক। তার সহযোগি হিসেবে আছেন মহেশপুর গ্রামের এমদাদুল, নুরুন্নবী, কৃষ্ণপুর গ্রামের অদু মিয়া ও হবিল্লাপুরের অনিল সরকারসহ কয়েকজন চিহ্নিত জুয়ারু। এছাড়া জামুডাঙ্গা এলাকায় স্থানীয় মঞ্জু, রেজ্জাক ও মাসুদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই জুয়ার আসর চালানো হয়। তাদের দাবি, এসব আসরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়। ত্রিপলের সামিয়ানা থাকায় বৃষ্টি হলেও খেলা বন্ধ হয় না এবং জুয়াড়িদের মোটরসাইকেল নিরাপদে রাখারও আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘রাত হলেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফরডাবুসহ নানা ধরনের জুয়ার আসর বসছে। জুয়া খেলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এর প্রভাবে চুরি-ছিনতাই ও সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে জুয়া চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোন কার্যকরী ব্যবস্থা চোখে পড়ে নাই।বিষয়টি একাধিকবার অভিযোগ করেও স্থায়ী কোনো প্রতিকার মেলেনি।’

খরকার দিঘির জুয়ার আসর প্রসঙ্গে ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহাফুজার রহমান মাফু বলেন, ‘জুয়া বন্ধে বহুবার চেষ্টা করেছি। থানা পুলিশকে জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। বরং জুয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসে।’

বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জুয়া নির্মূলে পুলিশ-প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তা না হলে আরও অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হবে, পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও জামুডাঙ্গা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বাঁশ ও ত্রিপলের সামিয়ানা টাঙিয়ে রাতের আঁধারে জুয়ার আসর বসার দৃশ্য দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের ভাষ্য, প্রতিবাদ করলেও নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ধাপেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন জুয়ারিকে আটক করা হয়েছে। কোথাও জুয়ার আসর বসার তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ধরনের অপরাধে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জুয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, ‘জুয়ার খবর পেলেই অভিযান চালানো হয়। তবে অধিকাংশ আসর খোলা মাঠ, নদীর চর কিংবা দুর্গম স্থানে হওয়ায় পুলিশ উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জুয়া, মাদক ও ক্যাসিনো চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

জানা গেছে শুধু খরকার দিঘি ও জামুডাঙ্গার নদীর চরেই নয়, মিরপুর, মহেশপুর, ভাজাকালাই নদীসংলগ্ন এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে জুয়ার আসর বসছে বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চললেও জুয়ার আসর পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তাদের দাবি, উঠতি বয়সী যুবক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা। তাই দ্রুত জুয়ার আসর উচ্ছেদ, মাদক কারবার বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরো খবর