
নওগাঁর সাপাহারে করলডাঙ্গা ও লালমাটিয়া এলাকায় সরকারি জমি দখল করে আড়ৎ ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে টিনের ঘর নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল শিমুলতলী গ্রামের মৃত হুমায়ন কবিরের ছেলে মোঃ রাকিব হাসান গ্রামবাসীর পক্ষে সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা প্রকৌশলী এবং সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জকেও (ওসি) প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রাকিবুল হাসান করলডাঙ্গা মৌজার (দাগ নং- ৬১৯ ও ৬১৭) জমি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত জমির উত্তর ও পূর্ব পাশে সরকারি রাস্তা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের জমির সীমানা অতিক্রম করে সরকারি রাস্তার বড় অংশ দখল করে টিনের আড়ৎ ঘর নির্মাণ করেন।
স্থানীয়রা প্রথমে বাধা দিলে কাজ কিছুদিন বন্ধ রাখলেও পরে কৌশলে কাঁটাতারের বেড়া ও টিনের স্থাপনা দিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ সরকারি জমি দখলে নিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত ৮ এপ্রিল তারা জমিটি পরিমাপ করে দেখেন যে, বর্তমানে নির্মিত ঘরের সীমানা থেকে প্রকৃত জমির সীমানা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট ভেতরে হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গায় নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “কিছুটা সরকারি জায়গা আমার আড়তের মধ্যে পড়েছে। তবে এজন্য কারো অনুমতি নেওয়া হয়নি।”
সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাদেকুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যদি কেউ অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা উদ্ধার করা হবে।”
এদিকে সরকারি এই মূল্যবান সম্পত্তি উদ্ধার এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
Leave a Reply