
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে ‘ধীরে ধীরে হত্যা করা হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন তার দুই ছেলে। আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তাদের বাবার ওপর ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার’ অভিযোগ এনেছেন।
রাত পোহলে অর্থাৎ বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টে এমন একটি মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের ছেলে সুলাইমান ও কাসিম এসব কথা বলেন।
বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন তারা। সুলাইমান বলেন, ছোট একটি কক্ষে মানবিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা, নতুন বই না দেওয়া এবং পরিবার বা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়গুলো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শামিল।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন চিকিৎসার অভাবে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও তাকে অল্প সময়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
কাসিম বলেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের আশঙ্কা, চাপ কমে গেলে তার ওপর আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, চিকিৎসা, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সাক্ষাৎ এবং পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন।
ইমরানের ছেলেরা বলেন, তারা রাজনীতিতে জড়াতে চান না এবং বাবার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বও নিতে চান না।
তাদের মতে, ইমরানও মুক্তির বিনিময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।