
ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান তার পদ হারিয়েছেন। শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিবাহিত হওয়া এবং সন্তান থাকার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একটি অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। উক্ত রেকর্ডে শাহজাহান খানকে ছাত্রদলে তার পদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা যায়, যেখানে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন যে মানুষ বিয়ে করবে না বা সন্তান হবে না কি না। শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখনই রোববার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে এক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চুয়াডাঙ্গা এবং মেহেরপুর জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই জেলাগুলোতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। শিগগিরই এসব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ওঠা সমালোচনার প্রেক্ষিতে শাহজাহান খান গণমাধ্যমকে বলেন, তার সন্তান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, দল তাকে যোগ্য মনে করেই দায়িত্ব দিয়েছিল এবং এতকাল পর্যন্ত তাকে ছাত্রদলের পদে রেখেছে। তার দাবি, যখন জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তখন দলের শীর্ষ নেতারা তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে সবকিছু জেনেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সে সময় বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়াটা বিবেচ্য বিষয় ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শাহজাহান খান আরও বলেন, কমিটি গঠন পুরোপুরি দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দল যখন মনে করবে তাকে দায়িত্ব দেবে, আবার যখন প্রয়োজন মনে করবে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবে। এটি একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া এবং বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জল ঘোলা করা ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।