1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
রামলীলায় ইন্ডিয়া জোটের হুঙ্কার, জ্ঞানেশের পর মোদি-শাহর বিচার হবে - আজকের কাগজ
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তুরস্ক সফরে আয়া সোফিয়ায় নামাজ পড়তে চান সাদিক খান রামলীলায় ইন্ডিয়া জোটের হুঙ্কার, জ্ঞানেশের পর মোদি-শাহর বিচার হবে হেলিকপ্টারে গ্রামে ফিরলেন প্রবাসী মনিরুজ্জামান, উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী সেন্টমার্টিনে খেলাধুলায় ভাটা, হতাশায় স্থানীয় খেলোয়াড়েরা চৌদ্দগ্রামে মাটির নিচে একটি মর্টার শেল সদৃশ লোহার বস্তু পুলিশ উদ্ধার করেছে জাতীয় লিগ: মেহরবের সেঞ্চুরি ও নাসুমের পাঁচ উইকেট গাজীপুর-সাভারের ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা মানিকগঞ্জে জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধন করলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা হিলিতে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত অটোরিকশায় সরকারের নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন শুরু সোমবার

রামলীলায় ইন্ডিয়া জোটের হুঙ্কার, জ্ঞানেশের পর মোদি-শাহর বিচার হবে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:২৭ পিএম
শেয়ার করুন

ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতের মোদিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট আজ রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। ‘ভোট বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন। সেদিক থেকে বলা যায়, ইন্ডিয়া জোট সফল।

তারা স্পষ্ট করেন, এটি কেবল রাজনৈতিক দলের লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি নাগরিকের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। সমাবেশের মূল সুর ছিল, জ্ঞানেশ কুমারকে সরালে তবেই নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহদের ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হবে এবং তবেই দেশের সংবিধান রক্ষা পাবে। মোদি-শাহকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবেই।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সমাবেশে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ভোট চুরির মাধ্যমেই মোদি ও অমিত শাহরা ক্ষমতায় টিকে আছেন। তিনি বলেন, প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য জ্ঞানেশ কুমার দায়ী। রাহুল গান্ধীর ভাষায়, জ্ঞানেশ কুমার রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন এবং এর জন্য তাকে কারাগারে যেতেই হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মোদি ও অমিত শাহ যতই শক্তিশালী হোন না কেন, কেউই সংবিধানের চেয়ে বড় নন। জ্ঞানেশকে সরানোর পরই তাদের অপরাধের বিচার করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁদের জেনে রাখা ভালো, যে যতই শক্তিশালী ও সম্পদশালী হোন, সংবিধানের চেয়ে কেউ বড় নন। তাঁদের সঙ্গে হাঁটতে থাকেন হাজারো কর্মী-সমর্থক। তাই রাহুলদের পৌঁছানোর আগেই কর্মী-সমর্থকদের ঢোকার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিহারের আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, মহাভারতে শকুনি মামার মতো ভোট চুরির পাশার চাল দিয়েছে বর্তমান শাসক। শারীরিক কারণে অন্যদের মতো তিনি মিছিলে অংশ নেননি।

ইন্ডিয়া জোটের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিল এবং ভোট চুরির বিরুদ্ধে জনমত গড়তে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে ধারাবাহিকভাবে জনসভা করা হবে। দিল্লির এই সমাবেশটি ছিল সেই কর্মসূচির প্রথম ধাপ। দিল্লি পুলিশের কঠোর শর্ত ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রামলীলা ময়দানে বিপুল জনসমাগম ঘটে। ময়দানের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমাবেশের মাধ্যমে আসন্ন পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড ও উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণারও সূচনা হলো। দিল্লি পুলিশ শর্তাধীন সেই জনসভার অনুমতি দিয়েছিল। নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রামলীলা ময়দানে ভিড় উপচে পড়েছিল। বলা যায়, এই সভা থেকে আগামী বছরের গোড়ায় পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড ও উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ভোটের প্রচারও বিরোধীরা শুরু করে দিল। ফলে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের পাঁচ মিনিটের বেশি ভাষণ দেওয়ার সুযোগ ছিল না। কাজেই পুলিশের মধ্যে একটা দোলাচল ছিল। মিছিলের পাশাপাশি চলতে থাকেন পুলিশের সদস্যরাও। জনসভায় তিনি বলেন, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে জনতা আওয়াজ তুলেছে। যদিও এর আগেই ময়দান ভর্তি হয়ে যায় লাখো মানুষে। হাজার হাজার মানুষ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়েন ময়দানের আশপাশে। ভারতে সাড়া ফেলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা কে এই অভিজিৎ। সেই আওয়াজ শুনে তাঁর সরে যাওয়া উচিত। জ্ঞানেশের বোঝা উচিত, দেশের মানুষের বিন্দুমাত্র আস্থা তাঁর প্রতি নেই। সভা সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন দিল্লি কংগ্রেসের নেতা অজয় মাকেন।

বিকেল পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা থাকায় নেতারা সংক্ষিপ্ত আকারে বক্তব্য রাখেন। দুপুর ১২টার দিকে মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবসহ জোটের শীর্ষ নেতারা কনট প্লেস থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত হুড খোলা গাড়িতে মিছিল করে আসেন। সোয়া এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই তাদের দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। তবে পুলিশি বাধা ছাড়াই এই পদযাত্রা সম্পন্ন হয়। অন্য নেতারাও একই রকম গাড়িতে চেপে এগোতে থাকেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাবেশে যোগ দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে তাদের হারানো হয়েছে। মমতা বলেন, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে মোদি ও অমিত শাহ তাদের পদে বহাল থাকতে পারবেন না। একইভাবে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভোট লুটের চক্রান্ত করেছে এবং উত্তর প্রদেশের মাধ্যমেই বিজেপির বিদায় শুরু হবে। জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিও তাদের বক্তব্যে ভোট তালিকার অনিয়ম ও বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেছেন, তাঁর রাজ্যে দেড় কোটি হিন্দুর নাম কাটা গেছে। পুলিশকে ফাঁকি দিয়েছেন ঠিকই, মোদির জন্য কি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবেন নেহা বোরা।

সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, শশী থারুরসহ জোটের শীর্ষ নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন। শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে জনসভায় শরিক হন। সমাপনী বক্তব্যে রাহুল গান্ধী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মোদি ও অমিত শাহকে কোথাও পালিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। সমাবেশে উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর জোর দেন। প্রত্যেকেই বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই লড়াইয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর