
সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মা ইলিশ শিকার ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৯অক্টোবর) বেলা ১১টায় চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন থেকে পরিবহন করার সময় প্রায় আট বস্তা ইলিশ মাছ জব্দ করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ।
অবৈধ ইলিশ পরিবহন ও মজুত বিষয় সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের মাহফুজ, মঞ্জু, মাহাবুব ও আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও মাহফুজের দাবি, মাছ শিকারের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
মাহফুজ বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছু জেলে নদীতে মাছ শিকার করছেন এমন ঘটনা সত্য। তবে জব্দ করা মাছের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। মাছ ধরার বিষয়টি মঞ্জু ও আব্বাস জানেন বলেও উল্লেখ করেন মাহফুজ। এ বিষয়ে জানতে ওই দুজনকে ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান কবির আট বস্তা ইলিশ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি উপজেলা মৎস্য প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ উঠেছে, কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের দক্ষিণাংশ পর্যন্ত নদী এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকার চলছে। স্পিডবোটে গলাচিপা হয়ে এসব মাছ পাচার করা হচ্ছে বলেও তথ্য সূত্রে জানাগেছে।
এ ছাড়াও ইলিশ ডিপ ফ্রিজে মজুত এবং মাছ কেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ব্যবসা চালানোর অভিযোগও পাওয়া উঠেছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এই সময়ে নিষিদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ রাখা ইলিশের বংশবিস্তার ও দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নদীপথে নজরদারি বাড়িয়ে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ, মজুত ও পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে জব্দ করা মাছের উৎস শনাক্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের মতে, নিষেধাজ্ঞার সুফল নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও জরুরি।
চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন,ইলিশ জব্দে কাউকে আটক করা হয়নি তবে মাছগুলো এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।