
রাজধানীর পল্লবীতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে এখানকার গ্যাং কালচার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ২০২৪ সালের শুরুতেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরা। থার্টিফার্স্ট নাইটে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করে তারা। এর পর দুদিন না যেতেই সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে মামুন ও মো. অনিক নামে দুই যুবককে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাং আশিক বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে গত বুধবার পল্লবী থানায় আশিক বাহিনীর ১১ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত মামুনের বড় বোন হোসনে আরা বেগম।
হোসনে আরা জানান, গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আশিক বাহিনীর প্রধান আশিক ওরফে লম্বু আশিক, সোহাগ, সুমন, ইমন, জুয়েল, হানিফ, সুজন, হোসেন, মনিরসহ ১১ জন অজ্ঞাত আরো ৫থেকে ৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ভাই মামুনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে গেলে আমার
ছেলে অনিককে এলোপাতাড়ি কোপায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামলার বিষয়ে পুলিশকে জানালে আমার ভাই ও ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে তারা।
সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গিয়েছে মাক্স পড়িত অবস্থায় কয়েকজন এসে মামুনকে টেনে নিয়ে ঘটনা ঘটিয়ে খুব দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়েছে
জানা গেছে, মিরপুরের পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং আশিক বাহিনী। স্থানীয় ব্যবসায়ী, তরুণ, চাকরিজীবী, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে না পেলে প্রকাশ্যেই তাণ্ডব চালায় তারা। চাঁদা না পেয়ে এর আগে পল্লবীতে এক পাঞ্জাবি ব্যবসায়ীকে হাতুড়িপেটা ও ছুরিকাঘাত করে আশিক গ্যাংয়ের সদস্যরা। এর একদিন পরেই এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে তারা। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। আশিকসহ তার বাহিনীর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে বেরিয়ে ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. আনোয়ার আজকের কাগজ বিডিকে বলেন, দুই যুবককে কোপানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তার মামলা হয়েছে। হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
Leave a Reply