
ফুটবল বিশ্বে একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা হলো, কোনো খেলোয়াড়ই দলের চেয়ে বড় নন। তবে বাস্তবে বড় তারকাদের সামলানোর সময় এই দর্শন মেনে চলা সবসময় সহজ হয় না। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এথেন্সে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে এএইকের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে রিয়াল মাদ্রিদ জয় পেলেও ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ফর্মের তুঙ্গে না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়মিত খেলানো হবে কি না।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কোচ জোসে মরিনিও। ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেছেন, তার কাছে দলের স্বার্থ সবার উপরে। একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে বিশেষ সুবিধা দিতে তিনি কোনোভাবেই পুরো দলের ক্ষতি মেনে নিতে রাজি নন। এথেন্সের ওই ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য তার পর্যবেক্ষণ কিছুটা ভিন্ন। মরিনিওর মতে, ভিনিসিয়ুস খুব খারাপ খেলেননি। তিনি বলেন, ‘এথেন্সের ম্যাচে ভিনির বদলে অন্য কোনো সাধারণ খেলোয়াড় থাকলে সবাই তাকে ভালো খেলছে বলত। সে ভালো খেলেছে, তবে অসাধারণ কিছু করতে পারেনি। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশা সব সময়ই আকাশছোঁয়া, কারণ গত মৌসুমে সে আমাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল।’
এদিকে লা লিগায় বর্তমানে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টানা ও রেফারির সঙ্গে তর্কের ঘটনায় তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তান্দের ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলো থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাকে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি ম্যাচ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ নভেম্বর সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি আবারও রিয়ালের হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রিয়ালের কোচ হিসেবে দলের ভারসাম্য বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মরিনিও। তার স্পষ্ট কথা—দলের প্রয়োজনে যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি প্রস্তুত। তারকা ফরোয়ার্ডের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করাই এখন কোচিং স্টাফের প্রধান চ্যালেঞ্জ।