
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় তাহসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাকে কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। দ্বীপ ছিলেন তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো কাছের বন্ধু।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ওইদিন মাকে ‘দ্বীপ আসছে, তার সঙ্গে দেখা করে আসি’ বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এর পরদিন তুরাগ নদে তার নিথর দেহ ভেসে ওঠে। বুধবার বিকাল চারটার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ তুরাগ নদে লাশ থাকার খবরটি জানানো হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডাঙায় তোলে। তার পরদিন (২৮ অক্টোবর) নিখোঁজ তাহসিফের নিথর দেহ ভেসে ওঠে তুরাগ নদে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা নিহতের কর্মকাণ্ড ও শেষ মুহূর্তের গতিবিধি নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন। ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টা ২৪ মিনিটে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে পৌঁছান দ্বীপ। গ্যারেজে ঢুকে তিনি হেলমেট রেখে কাপড় দিয়ে মুখ মুছে নেন। এরপর নিচে নেমে আসা তাহসিফের সঙ্গে তার কুশল বিনিময় ও হাত মেলানোর দৃশ্য ধরা পড়ে। সন্ধ্যা ছয়টা ৩১ মিনিটে তারা দুটি আলাদা বাইকে করে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সেই কালরাতে ঠিক কী হয়েছিল, দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন আর কখন ফিরেই বা এসেছিলেন— এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন দ্বীপ। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন।
দ্বীপ জানান, ২৭ অক্টোবর রাতে সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সেই সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল মনে হয়েছিল বলে দ্বীপ দাবি করেন। বন্ধুকে হারিয়ে দ্বীপ নিজেও এই মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। বর্তমানে পিবিআইয়ের হেফাজতে থাকা দ্বীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটান। তবে তাহসিফের এ রহস্যজনক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দ্বীপ; তার কাছে এ পুরো ঘটনাই ধোঁয়াশাপূর্ণ মনে হচ্ছে।